• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

জাতীয় পরিচয়পত্র সার্ভার দুই দিন বন্ধ রাখা হয়েছিল যে কারণে

ভয়েস অফ বাংলাদেশ
প্রকাশিত August 16, 2023
জাতীয় পরিচয়পত্র সার্ভার দুই দিন বন্ধ রাখা হয়েছিল যে কারণে

নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশে জাতীয় পরিচপত্র কর্তপক্ষ জানিয়েছে সাইবার হামলার আশঙ্কায় প্রায় দুই দিন এনআইডি সার্ভার বন্ধ রাখা হয়েছিল। বুধবার দুপুর ২টা থেকে এনআইডি সার্ভার পুরোপুরি সচল হয়েছে বলে দাবি করে এনআইডি কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম হুমায়ুন কবীর বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ১৪ই অগাস্ট রাত ১২টা থেকে ১৬ই অগাস্ট দুপুর দুইটা থেকে সার্ভার বন্ধ রাখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “যখন আমাদের কাছে মেইনটেন্যান্স থেকে আমাদের কিছু মেসেজ আসলো যে কিছু থ্রেট আসতে পারে সেকারণে আমরা ১৪ তারিখে ১২টার সময় বন্ধ করেছি এবং এই মুহূর্তে আমরা চালু করেছি।”

সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েম বলেন, সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার কিছু হুমকি দেখেছে যেগুলো কিছু ছোট ও কিছু বড়। এগুলো যেকোন সময় আসতে পারে। সেগুলো সমাধানযোগ্য ছিল এবং সমাধানের পর সার্ভার চালু করা নিরাপদ মনে করেছে। যার কারণে এটি আবার চালু করা হয়েছে।

“আমরা পুরোপুরি বলতে পারি যে এটা সুরক্ষিত,” বলেন তিনি।

এদিকে সার্ভার বন্ধ থাকলেও জাতীয় পরিচয়পত্র সম্পর্কিত সেবা নিতে গিয়েছিলেন অনেক সাধারণ মানুষ। সার্ভার বন্ধ থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় তাদের।

এবিষয়ে মহাপরিচালক এ কে এম হুমায়ুন কবীর বলেন, ১৭১টি প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়েছিল যে পরবর্তী নোটিশ না দেয়া পর্যন্ত জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের সেবা বন্ধ থাকবে।

“পাবলিকলি যদি আমরা বলি যে এটা বন্ধ যাচ্ছে তাহলে একটা প্যানিক সৃষ্টি হতে পারে। প্যানিকটাকে মিনিমাইজ করার জন্য এটা বলা হয়নি।”

নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ দুটো কারণেই সার্ভার বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সার্ভার বন্ধ রাখা কি সমাধান?
জাতীয় পরিচয়পত্র সার্ভার ব্যবহার করার দরকার হয় এমন একটি সেবা হচ্ছে পাসপোর্ট সেবা।ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করে জানা যায় যে, সার্ভার বন্ধ থাকার কারণে গতকাল পর্যন্ত খুব একটা সমস্যা হয়নি।

এই দপ্তরের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ১৫ই অগাস্ট পর্যন্ত কোন ধরণের সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি তাদের। তবে বুধবার বা ১৬ই অগাস্ট কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন তারা।

তিনি বলেন, “এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আবেদনকারীদের বায়োমেট্রিক তথ্য তারা জমা নিয়ে রাখেন। তবে তাতে পাসপোর্টের প্রক্রিয়া খুব একটা অগ্রসর হয় না।”

বেসরকারি একটি ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায় যে, জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভার বন্ধ থাকার কারণে বুধবার পর্যন্ত তারা খুব একটা সমস্যায় পড়েননি।

এদিকে, সাইবার হামলার আশঙ্কায় সার্ভার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তকে সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও এটা কার্যকর কোন পদক্ষেপ নয় বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, হামলার ভয়ে সার্ভার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত দীর্ঘস্থায়ী সমাধান আনে না।

এ বিষয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, হামলার শঙ্কায় সার্ভার বন্ধ রাখাটা “ইউজ্যুয়াল প্র্যাকটিস” না।

“নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে যদি আপনার আত্মবিশ্বাস না থাকে তাহলে পদক্ষেপ হিসেবে এটা একটা ব্যবস্থা হতে পারে,” বলেন মি. সাবির।

তাঁর মতে, জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা এবং সেটা চালু রাখার চেষ্টা করাটা আদর্শ হওয়া উচিত।

সার্ভার বন্ধ রাখলে যেহেতু সেটা পুরো নেটওয়ার্কের বাইরে থাকে তাই এটি সাময়িক সুরক্ষা দিলেও তা দীর্ঘ সময়ে নিরাপত্তা আনে না বলেও মনে করেন তিনি।

“যে কোন সময়ে সাইবার হামলা হতে পারে। হুমকি রয়েছে মানেই যে কালকেই অ্যাটাকটা আসবে এমন নয়, পরেও আসতে পারে,” বলেন মি. সাবির।

মূল সমস্যার সমাধান হচ্ছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থাটা নেয়া যাতে এ ধরণের হামলা মোকাবেলা করা যায়।