• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

শিশু ৯৮ হাজার টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে ভূমিষ্ঠ হচ্ছে: রিজভী

ভয়েস অফ বাংলাদেশ
প্রকাশিত June 1, 2022
শিশু ৯৮ হাজার টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে ভূমিষ্ঠ হচ্ছে: রিজভী

পদ্মা সেতু ক্ষমতাসীন দলের লুট, আত্মসাত এবং দুর্নীতির প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন রেখে বলেছেন, আপনি কোন অধিকারে অন্য দেশ থেকে চড়া সুদে এই পদ্মা সেতু বানিয়ে কৃতিত্ব নিচ্ছেন? ওটা তো লুটের প্রতীক, আত্মসাতের প্রতীক, দুর্নীতির প্রতীক। আজকে যে শিশু ভূমিষ্ঠ হয়েছে তার মাথার মধ্যেও ৯৮ হাজার টাকা ঋণের বোঝা আছে। তাকেও পরিশোধ করতে হবে ঋণ। আপনি চড়া সুদে লোন নিয়ে বলছেন নিজস্ব অর্থায়নে। এটির মাধ্যমে আপনি গোটা জাতিকে ঋণগ্রস্ত করেছেন আরেকটি জাতির কাছে।

বুধবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪১তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, পদ্মা সেতুর টাকা কি আপনার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে বের হয়েছে? আপনি তো টাকা নিয়েছেন চড়া সুদে চীনের কাছ থেকে। এই পদ্মা সেতুর মধ্যে একটি প্রতীকী জিনিস ভেসে ওঠে সেটি হলো আওয়ামী লীগের দুর্নীতি। কারণ এই সেতু অত্যন্ত অল্প সুদে বিশ্বব্যাংক বানাতে চেয়েছিল। কিন্তু তখন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা নিজের প্যাডে টাকা চেয়েছে বলেছে এই টাকা অমুক কোম্পানিকে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা যদি জড়িত থাকে তাহলে কি এটা প্রমাণিত হয় না যে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।

নিজস্ব অর্থায়নে কোনো কিছু করার দৃষ্টান্ত বর্তমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর নেই দাবি করে রিজভী বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা ব্যারেজ করার দৃষ্টান্ত আছে কেবল জিয়াউর রহমানের।

সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন,২০০৯ সালে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল তখন তাদের দলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জলিল সাহেব বলেছিলেন আওয়ামী লীগের কেবিনেটে যাদেরকে দেখছেন তাদের অনেকই একটি সংস্থার লোক।

বিএনপির এই নেতা বলেন, শেখ পরিবারের কেউ মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নেয়নি। আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছিলেন, কোন দিক থেকেই এই পরিবারের মুক্তিযুদ্ধে কোনো অবদান নেই। আর রণাঙ্গনের সব মুক্তিযোদ্ধারা বিএনপি করেন। যেমন— ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমসহ অনেকেই। এ কারণেই আওয়ামী লীগের যত ঈর্ষা। কারণ মুক্তিযুদ্ধে শেখ পরিবারের কোনো ভূমিকা নেই।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাবেক নেতা মোরতাজুল করিম বাদরু, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, কৃষক দলের সাবেক নেতা শাহজান মিয়া সম্রাট প্রমুখ বক্তব্য দেন।