• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করলো রাশিয়া

ভয়েস অফ বাংলাদেশ
প্রকাশিত June 1, 2022
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করলো রাশিয়া

রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বুধবার বলেছেন, ভারী অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনকে ওয়াশিংটনের সহায়তা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াবে।

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে অত্যাধুনিক রকেট লঞ্চার সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেয়ার খবরের মধ্যে রুশ কূটনীতিক এ মন্তব্য করলেন। বুধবার রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইউক্রেন রাশিয়ায় এ রকেট সিস্টেম দিয়ে কোনো হামলা চালাবে না, এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র এটি ইউক্রেনকে সরবরাহ করতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে রাশিয়া বলছে, মস্কো ওয়াশিংটনকে সংঘাতের একটি পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করবে।

জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি লিন্ডা থমাস বলেন, ‘আমরা এমন কোনও অস্ত্র সরবরাহ করছি না, যা ইউক্রেনীয়দের ইউক্রেনের অভ্যন্তর থেকে রাশিয়াকে আক্রমণ করার অনুমতি দেবে; প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ বিষয়ে খুব স্পষ্ট ছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধে (একটি) পক্ষ হতে যাচ্ছি না।’

রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ যুক্তির সাথে একমত নন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে রিয়াবকভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে কোনো অস্ত্র সরবরাহ, যা অব্যাহত থাকে ও ক্রমে বাড়তে থাকে, তাহলে এ ধরনের অগ্রগতির ঝুঁকি বাড়ায়।’

এ কূটনীতিক যোগ করেন যে, ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়ার সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধে কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই করেনি।

বুধবার বিবিসির খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘোষণা দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে আত্মরক্ষার জন্য আরও উন্নত রকেট সিস্টেম পাঠাবে। ইউক্রেন সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের অস্ত্র দেয়ার জন্য বহু দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করা হচ্ছে। এ অস্ত্র দিয়ে বিরোধী বাহিনীকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে দীর্ঘ দূরত্ব থেকে আঘাত করতে পারবে ইউক্রেন।

রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে অস্ত্রটি ব্যবহার করা হতে পারে- এই শঙ্কায় এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের এ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।

কিন্তু বুধবার বাইডেন বলেন, প্রাণঘাতী অস্ত্রের সহায়তা রাশিয়ার সঙ্গে কিয়েভের আলোচনার অবস্থানকে শক্তিশালী করবে এবং একটি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

নিউইয়র্ক টাইমস-এ এক লেখায় তিনি বলেন, ‘তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমরা ইউক্রেনীয়দের আরও উন্নত রকেট সিস্টেম এবং যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করব, যা ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের মূল লক্ষ্যগুলোকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত করতে সক্ষম করবে।’

হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নতুন অস্ত্রের মধ্যে এম ১৪২ হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (এইচআইএমএআরএস) অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে তিনি এটা নিশ্চিত করেননি যে, ঠিক কতোগুলো রকেট ইউক্রেনকে সরবরাহ করা হবে।

রকেট সিস্টেমগুলো ৭০ কিমি (৪৫ মাইল) দূরে লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক নির্ভুল-নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম। এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের এ ধরনের কোনো অস্ত্র নেই। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার রকেট সিস্টেমের চেয়ে এগুলো আরও বেশি সঠিকভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম।

গত মাসে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান বলেন, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবেলায় এইচআইএমএআরএস ইউনিট পাওয়া ‘গুরুত্বপূর্ণ’।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা, ইউক্রেন পূর্ব দোনবাস অঞ্চলে অস্ত্রগুলো মোতায়েন করবে, যেখানে লড়াই সবচেয়ে তীব্র এবং যেখানে সেগুলো ইউক্রেনের শহরগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো রাশিয়ান আর্টিলারি ইউনিট এবং বাহিনীতে আঘাত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।