• [english_date] , [bangla_date] , [hijri_date]

ওমিক্রনে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন শঙ্কা: আইএমএফ

ভয়েস অফ বাংলাদেশ
প্রকাশিত January 26, 2022
ওমিক্রনে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন শঙ্কা: আইএমএফ

অর্থনীতি ডেস্কঃ করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, ওমিক্রন ছাড়াও বিশ্বব্যাপী জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্ন হওয়ায় নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বেড়েছে। জ্বালানি মূল্যের অস্থিরতার সঙ্গে ভূ-রাজনীততেও উত্তাপ বাড়ছে। নতুন বছরে, অর্থাৎ ২০২২ সালের বিশ্ব অর্থনীতি আগের ধারণার চেয়েও দুর্বলভাবে শুরু হয়েছে।

করোনার আগের ধাক্কা কাটিয়ে অর্থনীতি যে গতিতে পুনরুদ্ধার হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, সেটি এবার কমিয়ে এনেছে আইএমএফ। ২০২১ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও ২০২২ সাল নাগাদ প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দিল সংস্থাটি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটুলকের হালনাগাদ প্রতিবেদেন গতকাল সংস্থাটি এ তথ্য উল্লেখ করেছে। এর আগে গত অক্টোবরে বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, এবারের হালনাগাদ প্রতিবেদেন সেটি দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ উদীয়মান দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। চীনের নির্মাণশিল্প থেকেও কর্মী ছাঁটাই চলছে। বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলো যেভাবে পুনরুদ্ধার হওয়ার আশা ছিল, তার গতি ধীর হয়েছে। করোনার প্রথম ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে যেভাবে প্রণোদনা দিয়েছিল, এবার সেগুলো গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরবরাহ ঘাটতির কারণে মার্কিন অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আইএমএফ ধারণা করছে, ২০২৩ সালেও বিশ্ব অর্থনীতির গতি মন্থর থাকবে। ২০২৩ সাল নাগাদ বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আরো কমে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২২ সালেও স্বাস্থ্য খাতে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না-ও মিলতে পারে। তবে ভ্যাকসিন কার্যক্রমে আরো গতি পাবে বলে আশা করা হয়েছে। সারা বিশ্বে যেভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, তাতে এই বৃদ্ধির হার আরো বাড়তে পারে। করোনার নতুন সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মহামারিকাল আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে। তবে আশা করা হচ্ছে, নতুন বছরে অর্থনীতির ঝুঁকিগুলো ক্রমান্বয়ে কমে আসবে। বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিন কার্যক্রম জোরদার করা, চিকিত্সাসুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে করোনার ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অনেক দেশই নিয়ন্ত্রণমূলক মুদ্রানীতির পথে হাঁটতে পারে। ফলে করোনার আগের সময়ের অবস্থানে ফিরে আসতে আরো সময় লাগবে। এখন নীতিনির্ধারণে জনগণের স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তায় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইএমএফ।

২০২১ সালে মাার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে। একইভাবে ইউরোপের প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ, চীনের প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ, উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকতে পারে। অন্যদিকে জাপানের প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।