• ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ ইং , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৭শে রবিউস-সানি, ১৪৪৩ হিজরী

যে দোয়ায় দিনরাত সব সময় সওয়াব মিলে

ভয়েস অফ বাংলাদেশ
প্রকাশিত নভেম্বর ২৪, ২০২১
যে দোয়ায় দিনরাত সব সময় সওয়াব মিলে

ধর্ম ডেস্কঃ

আল্লাহতায়ালার ৯৯টি গুণবাচক নামের একটি হলো– الغفار তথা অতিক্ষমাশীল; যিনি বান্দার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিতে ভালোবাসেন। আল্লাহতায়ালার কাছে ক্ষমা চাওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে কুরআনে কারিমে বহু আয়াত পাওয়া যায়।

আল্লাহতায়ালা বলেন, (হে নবী! আপনি) আমার বান্দাদের বলে দিন– নিশ্চয়ই আমি অতিক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। (সুরা হিজর: ৪৯)

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, যারা অজ্ঞাতবশত পাপাচার করে, অতঃপর তওবা করে ও সৎকর্ম করে, তাদের প্রতি আপনার প্রভু অতিক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। (সুরা নাহল: ১১৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বহু হাদিসে ইস্তিগফারের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যদি কেউ বেশি বেশি কাছে ক্ষমা চায়, আল্লাহতায়ালা তাকে সব প্রকার দুর্দশা থেকে মুক্তি দান করেন, হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে পরিত্রাণ দান করেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। (আবু দাউদ)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দৈনন্দিন ২৫-২৬ বার সব মুসলিম নর-নারীর জন্য ইস্তিগফার পাঠ করবে, আল্লাহতায়ালা তাকে মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ (যার সব দোয়া কবুল হয়) বানিয়ে দেবেন।

মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ হলো এমন ব্যক্তি যিনি দোয়া করা মাত্রই আল্লাহতায়ালা তার দোয়া কবুল করে নেন।

শাদ্দাদ বিন আওস (রা.) নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার (শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার) হলো-

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنوبَ إِلاَّ أَنْتَ

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খলাক্বতানি ওয়া আনা ‘আব্দুকা, ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাস্তাত্বা‘তু। আ‘উযু বিকা মিন শাররি মা সানা‘তু, আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ বিযাম্বী। ফাগফির লি, ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব্ব, আপনি ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি আমার সাধ্য মতো আপনার (তাওহীদের) অঙ্গীকার ও (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতির ওপর রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আপনি আমাকে যে নেয়ামত দিয়েছেন আমি তা স্বীকার করছি এবং আমার অপরাধও স্বীকার করছি। অতএব, আপনি আমাকে মাফ করে দিন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া পাপরাশি ক্ষমা করার কেউ নেই।

শাদ্দাদ বিন আওস (রা.) আরও বলেন, যে ব্যক্তি দিনের বেলায় বিশ্বাসের সঙ্গে এ বাক্যগুলো বলবে এবং সেদিন সন্ধ্যার আগে যদি সে মারা যায়— তাহলে সে ব্যক্তি জান্নাতের অধিবাসী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতের বেলায় এ বাক্যগুলো বলবে এবং সকাল হওয়ার আগে মারা যাবে— সে ব্যক্তি জান্নাতের অধিবাসী হবে। (বুখারি, হাদিস : ৬৩০৬)