• ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ ইং , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৭শে রবিউস-সানি, ১৪৪৩ হিজরী

সঞ্চয়পত্রের ১১ স্কিম: সমন্বিত নীতিমালার আওতায় আসছে

ভয়েস অফ বাংলাদেশ
প্রকাশিত নভেম্বর ২২, ২০২১
সঞ্চয়পত্রের ১১ স্কিম: সমন্বিত নীতিমালার আওতায় আসছে

নিউজ ডেস্কঃ সমন্বিত নীতিমালার আওতায় পরিচালিত হবে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের স্কিম। বর্তমান পারিবারিক ও পেনশনসহ ১১ ধরনের সঞ্চয়পত্র আছে। প্রতিটির জন্য আছে আলাদা নীতিমালা। সবকটিকে একটি নীতিমালায় আনতে প্রণয়ন করা হয়েছে সমন্বিত সঞ্চয়পত্র নীতিমালা। এ সংক্রান্ত খসড়া অনুমোদনের জন্য জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তর থেকে পাঠানো হয়েছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে (আইআরডি)। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি কার্যকর হলে পৃথক নীতিমালার জটিলতা কাটবে। গ্রাহকদের অনলাইনে সেবা নিতে সুবিধা হবে। একই ডকুমেন্ট দিয়ে সব স্কিমের সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে। এতে ব্যাংক ও ডাকঘরের কার্যক্রমও সহজ হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের পরিচালক শাহ আলম বলেন, বর্তমান প্রতিটি সঞ্চয়পত্র ম্যানুয়াল এবং পৃথক নীতিমালায় পরিচালনা হচ্ছে। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে অনলাইনে সব নীতিমালাকে একসঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য একটি সমন্বিত নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত হচ্ছে। খসড়াটি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদনের পর কার্যকর হবে।

সূত্র জানায়, সমন্বিত সঞ্চয়পত্র নীতিমালা দ্রুত অনুমোদনের জন্য বৈঠক থেকে তাগিদ দেওয়া হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভায় এ সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, ৪ ফেব্রুয়ারি প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য সঞ্চয়পত্রের সমন্বিত খসড়া নীতিমালাটি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। নীতিমালাটি দ্রুত অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। ওই সভায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সমন্বিত নীতিমালাটি দ্রুত চূড়ান্ত করতে যুগ্মসচিবকে (সঞ্চয়) নির্দেশ দেন। সূত্রমতে, বর্তমান সঞ্চয়পত্রের স্কিমগুলোর মধ্যে চারটি সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্টের আওতায় ইস্যু করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে-পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্র। উল্লিখিত সঞ্চয়পত্রের মধ্যে ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র পরিচালনা হচ্ছে ‘সঞ্চয়পত্র বিধিমালা ১৯৭৭’-এর মাধ্যমে। এছাড়া পরিবার সঞ্চয়পত্র পরিচালিত হচ্ছে ‘পরিবার সঞ্চয়পত্র নীতিমালা ২০০৯ দ্বারা। আর পেনশনার সঞ্চয়পত্র একইভাবে ‘পেনশনার সঞ্চয়পত্র নীতিমালা ২০০৯’-এর মাধ্যমে পরিচালনা হচ্ছে। আর ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড বেচাকেনা হচ্ছে ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড বিধিমালা ২০০২ এবং ইউএস ডলার প্রিমিয়ার বন্ড পরিচালিত হচ্ছে ইউএস ডলার প্রিমিয়ার বন্ড বিধিমালা ২০০২ আলোকে। এছাড়া ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড বিধিমালা ১৯৮১ আলোকে চলছে এই বন্ড বেচাকেনা। এর বাইরে রয়েছে বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড, ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের অধীনে সাধারণ হিসাব, মেয়াদি হিসাব, ডাকঘর জীবন বিমা। এসব সঞ্চয় স্কিম পৃথকভাবে নীতিমালার মাধ্যমে পরিচালিত হলেও প্রয়োজনীয় শর্ত ও ক্রয় করার ক্ষেত্রে ডকুমেন্ট প্রায় সবকটির একই। শুধু সুদ ও ক্রেতার বয়স এবং শ্রেণি ভিন্নতা আছে। আর সঞ্চয়পত্রের মূল্যায়ন, আয়কর হার, ক্রয় পদ্ধতি ও নিবন্ধন, নগদায়ন পদ্ধতি, মনোনয়ন ব্যক্তি, সঞ্চয়পত্র হারিয়ে গেলে করণীয় এবং অন্যান্য শর্তবলি প্রায় একই রকম।

প্রসঙ্গত, এর আগে সরকার সঞ্চয়পত্র কিনতে ভোটার আইডি কার্ড এবং টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে জারি করেছে একটি গাইডলাইন। এর আগে সুদহারও কমানো হয়েছে। মূলত সঞ্চয়পত্র খাতে কালোটাকা, ধনী এবং করপোরেট বিনিয়োগ ঠেকাতে নানা ধরনের বিধান চালু করা হচ্ছে। ব্যাংক খাতের সুদহার কমে যাওয়ায় অধিক মুনাফার আশায় এখন অনেকে সঞ্চয়পত্র কিনছেন। এতে সুবিধাভোগী নিম্ন ও মধ্যম শ্রেণির কাছে সঞ্চয়পত্রের সুবিধা কম যাচ্ছে। প্রকৃত সুবিধাভোগীর কাছে সঞ্চয়পত্রের সুবিধা পৌঁছে দিতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।