• ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ ইং , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৭শে রবিউস-সানি, ১৪৪৩ হিজরী

নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার-সংবাদ সম্মেলনে অতিথি লেখক ও প্রকাশকদের শুভেচ্ছা: মুক্তধারার নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে

ভয়েস অফ বাংলাদেশ
প্রকাশিত অক্টোবর ৩০, ২০২১
নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার-সংবাদ সম্মেলনে অতিথি লেখক ও প্রকাশকদের শুভেচ্ছা: মুক্তধারার নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে

নিউজ ডেস্কঃ নিউইয়র্কের লা গুয়ারডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলে আজ ২৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে পাঁচ দিন স্থায়ী ৩০-তম নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা। মেলার পূর্বাহ্ণে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে আগত লেখক ও প্রকাশকবৃন্দ তিরিশ বছর ধরে প্রবাসে উপমহাদেশের বাইরে দীর্ঘতম ও সর্ববৃহৎ এই বইমেলার আয়োজনের জন্য মুক্তধারা ফাউন্ডেশনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা এই বইমেলাকে বাঙ্গালির প্রাণের মেলা নামে অভিহিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শুরুতে ৩০-তম বইমেলার আহ্বায়ক বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক ড. নূরুন নবী বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, প্রবাসে বসেও বাংলাদেশের সদ্য প্রকাশিত বাংলা বই এই মেলায় পাওয়া যায়। এটা সম্ভব হয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রকাশকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কারণেই। কভিডের হুমকি সত্বেও বাংলাদেশের প্রথমসারির ১১ জন প্রকাশক এই মেলায় অংশ নিচ্ছে। সে কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে কয়দিন এই মেলা বসে, নিউইয়র্ক হয়ে ওঠে প্রবাসে এক টুকরো বাংলাদেশ। ড নবী জানান, কোভিডের কারণ গত বছর ভার্চুয়াল মেলা করতে হয়েছিল। প্রবাসী বাঙালি পাঠকদের বিপুল আগ্রহ ও উৎসাহে কারণে এবছর সঙ্কুচিত আকারে পাঁচ দিনের মেলা বসছে দর্শকদের অংশগ্রহণে। তিনি আরো জানান, মেলার উদ্বোধক আসাদ চৌধুরী ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতার জন্য ব্যক্তিগতভাবে মেলায় আসছেন না। তিনি ইতিমধ্যেই তাঁর ভিডিও বক্তব্য পাঠিয়ে দিয়েছেন।

মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী বিশ্বজিত সাহা সাম্প্রতিক সময়ে যেসব বরেণ্য ব্যক্তি কভিডের কারণে আমাদের ছেড়ে গেছেন তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। দুই বছর আগেও যারা এই মেলায় অংশ নিয়েছেন, এখন তাঁদের অনেকেই নেই। তিনি বিশেষ করে জনাব শামসুজ্জামান খান, হাবীবুল্লাহ সিরাজী ও আবুল হাসনাতের কথা স্মরণ করেন। এই মেলাকে তাঁরা ভালবাসতেন। তাদের কারণেই মেলা প্রবাসী বাঙ্গালিদের কাছে এমন সমাদর পেয়েছিল, তিনি বলেন।

নিউইয়র্ক বইমেলায় প্রতি বছর বাংলা ভাষার একজন বরেণ্য সাহিত্যিককে মুক্তধারা/জেএফবি সাহিত্য পুরষ্কার দেওয়া হয়। এবছর সাহিত্য পুরষ্কার পাচ্ছেন বাংলা ভাষার বিখ্যাত লেখক সমরেশ মজুমদার, সে কথা ঘোষণা করে মুক্তধারার নির্বাহী কমিটির অন্যতম উপদেষ্টা গোলাম ফারুক ভুঁইয়া জানান, এত বড় মাপের একজন লেখককে এই পুরষ্কার দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। কভিডের কারণে সমরেশ মজুমদার আসতে পারছেন না, তিনিও ভিডিও-এর মাধ্যমে নিজের সন্তুষ্টি ব্যক্ত করে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন।

অতিথি প্রকাশকদের পক্ষে অনন্যা প্রকাশনীর সত্বাধিকারী মনিরুল হক নিউ ইয়র্ক বইমেলাকে বাংলাদেশ ও  পশ্চিম বাংলার বাইরে বাংলা বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাৎসরিক আয়োজন হিসাবে বর্ণনা করেন। মেলার উদ্যোক্তাদের আতিথেয়তার প্রশংসা করে তিনি বলেন, মেলার কয়েকটি দিন আমরা এক মুহুর্তের জন্যও কোন অভাব করিনা।

সাংবাদিক সম্মেলনে অতিথি লেখক ও প্রকাশকদের মধ্যে আরো ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা, লেখক-সাংবাদিক হারুন হাবীব, শিশু সাহিত্যিক ফারুক হোসেন, কবি ও প্রকাশক জাফর আহমেদ রাশেদ, লেখক-প্রকাশক হুমায়ূন কবীর ঢালী, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সভাপতি ফেরদৌস সাজেদীন, ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা গোলাম ফারুক ভুঁইয়া, ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারপাসন হাসান ফেরদৌস।

উল্লেখযোগ্য, বৃহষ্পতিবার সন্ধায় সাড়ে ছয়টায় লা গুয়ার্ডিয়া ম্যারিয়েট হোটলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর অবশিষ্ট চারদিন বইমেলা বসবে জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে। এখানে বই প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের পাশাপাশি বই নিয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে, প্রতিদিন বিকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। শনি ও রোববার দুপুর ১টা থেকে রাত ১১টা পযন্ত চলবে। ম্যারিয়টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য মুক্তধারা ফাউন্ডেশন থেকে জ্যাকসন হাইটস থেকে ম্যারিয়ট পযন্ত শাটেল সার্ভিস এর ব্যব্স্থা করা হয়েছে।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১