• ২৩শে অক্টোবর, ২০২১ ইং , ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

এক নেতা এক পদ কার্যকরে কঠোর বিএনপি, একটি পদ রেখে বাকিগুলো ছাড়তে চিঠি দেওয়া হবে

ভয়েস অফ বাংলাদেশ
প্রকাশিত অক্টোবর ৭, ২০২১
এক নেতা এক পদ কার্যকরে কঠোর বিএনপি, একটি পদ রেখে বাকিগুলো ছাড়তে চিঠি দেওয়া হবে

নিউজ ডেস্কঃ দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘এক নেতা এক পদ’ কার্যকরে আবারও কঠোর অবস্থানে বিএনপি। শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই বিশেষ বিধান কার্যকরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। একাধিক পদধারী নেতাদের তালিকা করা হচ্ছে।

একটি পদ রেখে বাকিগুলো ছেড়ে দিতে শিগগিরই তাদের চিঠি দেওয়া হবে। এ নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা কাজ শুরু করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায় এসব তথ্য।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে বিএনপির গঠনতন্ত্রের ১৫ ধারার বিশেষ বিধান ‘এক নেতা এক পদ’ যুক্ত করা হয়। গঠনতন্ত্রের ১৫-এর ‘ক’ ও ‘খ’ উপধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে দলের কোনো পর্যায়ের কমিটির শীর্ষ দুই পদে থাকতে পারবেন না।

স্থায়ী কমিটি বা চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের কোনো সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক অন্য কোনো পদে থাকতে পারবেন না। তবে অনিবার্য কারণে দলের চেয়ারম্যান সাময়িকভাবে ব্যতিক্রম অনুমোদন করতে পারবেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স যুগান্তরকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত এখন থেকে একজন নেতা একাধিক পদে থাকতে পারবেন না। এটি কার্যকর হচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক পদধারী নেতাকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, গঠনতন্ত্র মেনে সর্বশেষ কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর আগে মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার একদিন পরই ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু তাদের আগের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

আমিনুল ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক এবং মজনু ছিলেন যুবদল দক্ষিণের সভাপতি। তারেক রহমানের নির্দেশে তারা পদত্যাগ করেন। তবে মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান ও দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম উভয়েই দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদেরও পদত্যাগ করার কথা। তাদের মতো আরও কয়েকজন উপদেষ্টা আছেন। তারা আবার জেলা কমিটির শীর্ষ পদে আছেন। কিন্তু এ নিয়ে দলের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নির্বাহী কমিটির কোনো পদ নয়। সেজন্য উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে না।

এছাড়াও গঠনতন্ত্র মেনে মহাসচিব হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কৃষক দল ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির পদ ছেড়ে দেন। কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান পদ রেখে নোয়াখালী জেলা সভাপতির পদ ছেড়ে দেন মো. শাহজাহান। যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ছেড়ে দেন যুবদলের সভাপতি পদ। সাংগঠনিক সম্পাদক পদ ছেড়ে চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি হন (বর্তমান আহ্বায়ক) ডা. শাহাদাত হোসেন।

এরকম আরও কয়েকজন নেতা নিজ থেকেই একাধিক পদ ছেড়ে দেন। তবে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, মজিবুর রহমান সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আসাদুল হাবিব দুলু, নজরুল ইসলাম মঞ্জু মহানগর ও জেলার শীর্ষ পদে এখনো আছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আরও বেশ কয়েকজন নেতা একাধিক পদে রয়েছেন। এসব নেতা বারবার এক পদ রেখে অন্য পদগুলো ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেওয়ার পরও তা মানেননি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে দলীয় গঠনতন্ত্রের বিশেষ বিধান এক নেতার এক পদ যুক্ত করা হয়। এতে আরও যোগ্যরা যোগ্য জায়গায় স্থান পাবেন, দল উপকৃত হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চিন্তাভাবনা দলকে এগিয়ে নেওয়ার। সেভাবেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, যেসব নেতা দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন, তাদের উচিত একটি রেখে বাকিগুলো ছেড়ে দেওয়া। এতে দল আরও বেশি গতিশীল হবে, শক্তিশালী হবে।

সূত্র জানায়, এর আগেও একবার এই বিশেষ বিধান কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন একাধিক পদধারী ৪১ নেতার তালিকা হয়। তাদের একটি পদ রেখে বাকিগুলো ছেড়ে দেওয়ার কথা লিখিতভাবে বলা হয়েছিল। বেশ কয়েকজন সেই নির্দেশনা মেনেছিলেন।

বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান জানান, চেয়ারপারসন কারাগারে যাওয়ার আগে ৩০ জনের মতো নেতা এক পদ রেখে বাকি পদ থেকে পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় দপ্তরে। পরে তাদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা তিনি জানেন না। তবে দলের নয়াপল্টনের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, পদত্যাগপত্র জমা পড়া ওইসব পদে অন্য কাউকে নিয়োগ না দেওয়ায় পদত্যাগীরা এখনো সেই পদগুলো ব্যবহার করছেন। এতে এক ধরনের বিভ্রান্ত তৈরি হয়েছে।

বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, ‘এক নেতা এক পদ’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু অসংগতিও রয়েছে। সম্প্রতি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুকে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তীকে সহসভাপতি করা হয়েছে। অথচ কৃষক দলের এই কমিটির সভাপতি যাকে করা হয়েছে তিনি তাদের চেয়ে অনেক জুনিয়র।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হয়ে একজন জুনিয়রের নিচে পদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও বিএনপিতে আলোচনা হচ্ছে। আবার খান রবিউল আলম রবি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হওয়ায় তাকে ঢাকা মহানগরের কমিটিতে রাখা হয়নি। অথচ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটিতে বেশ কয়েকজন নেতা আছেন যারা নির্বাহী কমিটিরও সদস্য। আবার আগস্টে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সদস্য সচিব করা হয়েছে কামরুজ্জামান রতনকে। অথচ তিনি দলের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদকও।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১