• ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ ইং , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৭শে রবিউস-সানি, ১৪৪৩ হিজরী

বাড়ি ফেরার সময় চাঁদপুরের ইলিশ সাথে নিয়ে ফিরব : কৌশানি মুখার্জি

ভয়েস অফ বাংলাদেশ
প্রকাশিত অক্টোবর ২, ২০২১
বাড়ি ফেরার সময় চাঁদপুরের ইলিশ সাথে নিয়ে ফিরব : কৌশানি মুখার্জি

বিনোদন ডেস্কঃ টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কৌশানি মুখার্জি। দ্বিতীয়বার ঢালিউডের ছবিতে অভিনয় করছেন তিনি। ছবির নাম ‘প্রিয়া রে’। পুজন মজুমদারের পরিচালনায় এ ছবিতে কৌশানির বিপরীতে অভিনয় করছেন বাংলাদেশি অভিনেতা শান্ত খান। চাঁদপুরের এক গ্রামীণ পরিবেশে গত মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকে শুটিং শুরু করেছেন তারা। শুক্রবার দুপুরে শুটিং সেটে বসেই একান্ত আলাপ করেছেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। এসময় কৌশানি জানান বাংলাদেশকে তার দ্বিতীয় বাড়ি মনে হয়। যখন তিনি কলকাতায় ফিরবেন এখানকার ইলিশ নিয়ে যাবেন সঙ্গে করে। কৌশানি মুখার্জির সঙ্গে দীর্ঘ এ আলাপ করেছেন

 

২০১৬ সালে প্রথম বাংলাদেশে এসেছিলেন। সেই সময় শুটিং হয়েছিল গোছালো ও আভিজাত্য এলাকায়। আবার এসেছেন। এবারের পরিবেশটা গ্রামের। সবমিলিয়ে এবারের অভিজ্ঞতাটা কেমন?

 

কৌশানি মুখার্জি: আমি বাংলাদেশকে সবসময় দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে দেখি। আমার কাছে মনে হয় না- আমি বিদেশে এসেছি। মনে হয়, আমি আমার কাছের মানুষজনদের পেয়েছি। এখানকার আতিথেয়তা, আপ্যায়নের ধরণ আমাকে মুগ্ধ করেছে। ২০১৫ সালে আমার প্রথম ছবি ‘পারবো না আমি ছাড়তে তোকে’ শুটিং হয়েছিলো। ঠিক ৬ বছর পর এসে মনে হচ্ছে আমি সেই ফিলটা পাচ্ছি। পুরো গ্রামের একটা পরিবেশ। গ্রামের মানুষ। সসব মিলিয়ে দারুণ একটা অভিজ্ঞতা।

 

 

‘প্রিয়া রে’ ছবিতে আপনার চরিত্রটা কেমন দেখতে পাবে দর্শকরা?

এখানে আমি যে ছবিটি করছি সেটার নাম ‘প্রিয়া রে’। আর আমার চরিত্রটার নাম প্রিয়া। আমি একজন ঘরোয়া রোমান্টিক মেয়ে কিন্তু পড়াশোনায় ভালো না। বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে। সেই আদর থেকেই প্রেমের অধ্যায়টা জীবনে শুরু হওয়া।

‘প্রিয়া রে’ সিনেমার নায়ক শান্ত খান। তার সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন?

শান্ত খানকে দেখে আমার জার্নিটা মনে পড়ে যায়। কারণ, সবাই তো আর জন্মের পরই সুপারস্টার হয় না। সবারই একটা স্ট্রাগল থাকে, পুরো একটা ইতিহাস থাকে। সেটা পরে গিয়ে আমরা বলতে পারি- আমার সঙ্গে এই এই হয়েছে। সেখানে শান্ত অনেক ভালো। প্রথম দিকে সে অনেক চুপচাপ ছিলো। কিন্তু আমি নিজে এসেই তার সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ফেলেছি। আমার একবারের জন্যও মনে হয়নি সে নতুন অভিনেতা।

 

 

বাংলাদেশি অনেক অভিনয়শিল্পী ওপার বাংলায় (টালিউডে) কাজ করছেন। তাদের ব্যাপারে কিছু শুনতে চাই…

 

আমার মনে হয় জয়াদি (জয়া আহসান) অন্য ধরণের স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করছেন। যা আমাদের ওখানকার প্রত্যেকটা মানুষ তাকে ভালোবাসে। তার অভিনয়ের প্রশংসা করে। এছাড়া আমি নিজেও জয়াদির বড় ভক্ত। সম্প্রতি আরও যারা কাজ করছে তাদের সবাই অনেক ভালো করছে।

এর আগে কালকাতার একটি গণমাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশের শিল্পীরা কলকাতা বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে যাওয়ার কারণে সেখানকার অনেক শিল্পীর কাজ কমে গেছে বা তারা একটা চাপে পড়েছে। আপনার কাছে কি মনে হয়। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

ভগবানের আশির্বাদে আমাকে ঠাকুর যা যা দিয়েছে, আমার ৬ বছরের ক্যারিয়ারে আমি অত্যন্ত খুশি। আগামী দিনেও আমার ডেট বুকিং। সুতরাং কেউ আসাতে আমার তো কাজ কমেনি। আমার কথা হলো- কারো সঙ্গে আমার প্রতিযোগিতা নেই। আমি নিজেই আমার কম্পিটেটর।

 

 

আপনাকে ভিন্নধারার গল্পগুলোতে দেখা যায় না। আগ্রহ নেই, নাকি কাজ করা হয়ে ওঠে না।

সম্প্রতি আমি ‘ফিরে দেখা’ নামে একটি ছবি করেছি। এটা পুরোপুরি ১৯০০ কালের একটি ছবি। এটাতে গ্লামারেস কৌশানি না। সেই তকমাটাই ভেঙে দিয়েছি। আমি ‘গার্লফ্রেন্ড’ করেছি। সেটাও কমার্শিয়াল ছবি ছিল না। এটাও সাদা-মাঠা একটা ছবি ছিলো। এই দুটো ছবিই খুব ভালোবাসা পেয়েছিলো। সেই সঙ্গে যখন চ্যানেলে ছবিগুলো বিক্রি হয়েছে তখন প্রত্যেকটি চ্যানেল থেকে খুব ভালো টিআরপি পেয়েছিলো। সেই জায়গা থেকে ‘প্রিয়া রে’ ছবিটিও কমার্শিয়াল ছবি না।

বাংলাদেশের কোনো খাবার, পোশাক বা দর্শনীয় স্থানের প্রতি আপনার আগ্রহ আছে কি না?

হ্যাঁ। অবশ্যই আছে। বাংলাদেশে নামার পর সোজা চাঁদপুরে এসেছি। খুব বেশি কিছু দেখতে পারিনি। আগেরবার যখন এসেছিলাম তখন সময় কম ছিল। ৩ তারিখ ঢাকায় ফিরে জমিয়ে খাবো। আর ইলিশ মাছ প্রতিটা বাঙালির কাছেই জনপ্রিয়। বিশেষ করে ইলিশ, সর্ষে ইলিশ, ইলিশের ঝোল। এখানে এসে প্রচুর ইলিশ খাচ্ছি। আমি শুটিং শেষে যেদিন কলকাতায় বাড়িতে ফিরব সেদিন চাঁদপুরের পদ্মা আর মেঘনার প্রচুর ইলিশ নিয়ে বাড়ির সবাইকে উপহার দেব। আর মায়ের হাতে সর্ষে ইলিশ রান্না করে খাব।

বাংলাদেশের আপনার কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না?

একদম। আমি এখানে এসেছি। পুরো বাংলাদেশ কাঁপিয়ে যাবো।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১