নিউজ ডেস্কঃ  শুরুতে কোপা আমেরিকার আয়োজক ছিল দুই দেশ- আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়া। পরবর্তীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে আয়োজকের তালিকা থেকে কাটা যায় কলম্বিয়ার নাম। পরে আর্জেন্টিনার কথাও ভাবাও হচ্ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সোমবার সকালেই ঘোষণা করা হয়, আর্জেন্টিনায় টুর্নামেন্টটি হচ্ছে না। এর মাধ্যমে অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছিল লাতিন অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ফুটবল প্রতিযোগিতা। ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই কোপা আমেরিকার নতুন আয়োজক দেশের নাম ঘোষণা করেছে কনমেবল। এবার টুর্নামেন্টটি আয়োজন করবে ব্রাজিল।

অর্থাৎ, টানা দ্বিতীয়বারের মতো মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই আয়োজন করতে যাচ্ছে সাম্বার দেশ। আগের সূচিতেই হবে কোপা আমেরিকা। তবে ভেন্যু ও ম্যাচ-ডে নতুন করে জানানো হবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে কনমেবল।

গত বছর হওয়ার কথা ছিল কোপা আমেরিকা। কিন্তু করোনাভাইরাসের ভয়াবহতায় স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু এ বছর সময় যত এগিয়ে আসছিল, তত বেশি প্রতিযোগিতা নিয়ে শঙ্কার মেঘ জন্মাতে থাকে। অন্যতম আয়োজক কলম্বিয়ায় সরকার ও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় দেশটির ফুটবল ফেডারেশন টুর্নামেন্ট আয়োজনের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ায়। এরপর আর্জেন্টিনায় করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় কনমেবল সেখান থেকেও কোপা আমেরিকা সরিয়ে নেয়।

এরপর জরুরি বৈঠক ডেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন আয়োজক হিসেবে ব্রাজিলের নাম ঘোষণা করেছে লাতিন ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ‘২০২১ সালের কোপা আমেরিকা হবে ব্রাজিলে। শুরু ও শেষের তারিখ নিশ্চিত করা হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভেন্যু ও সূচি জানিয়ে দেবে কনমেবল।’

কোপা আমেরিকার ১০৫ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম দুই দেশ আয়োজক হয়েছিল। তবে সার্বিক পরিস্থিতি সেই ইতিহাস গড়তে দিলো না। এককভাবে ব্রাজিলে হতে যাওয়া আসরটি ১৩ জুন শুরু হয়ে চলবে ১০ জুলাই পর্যন্ত। এবার দিয়ে ষষ্ঠবার কোপার আয়োজক সাম্বার দেশ। আয়োজক হিসেবে আগের পাঁচবারের সবক’টিতে শিরোপা জিতেছে তারা। সবশেষটি গতবার ২০১৯ সালে, ফাইনালে পেরুকে হারিয়েছিল ৩-১ গোলে।

এদিকে করোনায় বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে দুইয়ে আছে ব্রাজিল। এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৬২ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন দেশটিতে। গতকালও ৪৩ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন, মৃত্যুবরণ করেছেন ৯৫০ জন। ওদিকে আর্জেন্টিনায় গতকাল ৩৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৩৪৬ জন।