• ২৫শে জুন, ২০২১ ইং , ১১ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৫ই জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

আবারও শুরু হলো ভ্যাট গোয়েন্দাদের অভিযান

ভয়েস অফ বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ২৫, ২০২১
আবারও শুরু হলো ভ্যাট গোয়েন্দাদের অভিযান

নিউজ ডেস্কঃ  জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুযায়ী রাজধানী ও এর বাইরে অভিযান শুরু করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর। গতকাল সোমবার (২৫ মে) শুরু হওয়া এ অভিযান এখনো অব্যাহত আছে।

এর আগে অভিযান পরিচালনার জন্য রাজধানীর জন্য চারটি এবং রাজধানীর বাইরের অভিযানের জন্য বিভিন্ন জেলায় একটি করে টিম হঠন করা হয়। আজ মঙ্গলবার (২৫ মে) সকাল থেকে নরসিংধীতে অভিযান চালাচ্ছে ভ্যাট গোয়েন্দার একটি দল।

জরিপ দল রাজধানী ও এর বাইরের বিভিন্ন বিপনীবিতান, শপিংমল, কারখানা ও সেবাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ভ্যাট সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছে। গতকাল সোমবার প্রথম দিনেই ৭ শতাধিক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনই পায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল থেকে এই  চারটি টিম ঢাকার চারটি ভ্যাট কমিশনারেট (ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম)-এর আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটে জরিপ করছে। টিমগুলোতে রয়েছেন মালেকিন নাসির, সহকারী পরিচালক- টোকিও স্কয়ার, মোহাম্মদপুর; তানভীর আহমেদ, উপপরিচালক-  সানরাইজ প্লাজা ও অর্কিড প্লাজা,  ধানমন্ডি;  মুনাওয়ার মুরসালিন, সহকারী পরিচালক নাভানা টাওয়ার, গুলশান-১, অনন্যা মার্কেট- বারিধারা; মাহিদুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক হাজী হোসেন প্লাজা, রূপগঞ্জ ব্রিজের আগে।

জরিপ দলের কর্মকর্তারা নির্ধারিত ফর্মে ভ্যাটযোগ্য প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করবে এবং পরে যাচাই করে প্রতিবেদন দেবে।

ভ্যাট সংক্রান্ত এসব তথ্যে সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে ভ্যাট নিবন্ধন নম্বর, নিবন্ধন সনদ দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শিত আছে কিনা, বিক্রিত পণ্য বা সেবার প্রকৃতি, টিন, দোকানের আয়তন ও ভাড়া, কর্মচারীর সংখ্যা ও তাদের আনুমানিক বেতন, মাসিক গড় বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ, ২০২০ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে ভ্যাট পরিশোধ করেছে কিনা এবং মাসভিত্তিক ভ্যাটের পরিমাণ।

মাঠপর্যায়ের এসব তথ্য সংগ্রহের পর স্থানীয় ভ্যাট অফিস এবং ভ্যাট অনলাইন সিস্টেমের সাথে যাচাই করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।

জরিপের মাধ্যমে যারা ভ্যাটের আওতাভুক্ত নেই তাদেরকে আইনের আওতায় আসতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, সঠিক পরিমাণ ভ্যাট নিয়মিতভাবে সরকারি কোষাগার জমা দিতে নিবন্ধিতদের আইনের বিধান সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে। জরিপ পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্ট মার্কেট সমিতির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।

ভ্যাট আইন অনুসারে ভ্যাটযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে, প্রতিটি পণ্য বা সেবা বিক্রির সময় ক্রেতাকে যথাযথভাবে মূসক-৬.৩ এ চালান প্রদান এবং ক্রেতার কাছ থেকে কাটা ভ্যাট মাসশেষে ১৫ তারিখের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে তদন্তের মাধ্যমে ফাঁকি দেওয়া ভ্যাট, জরিমানা ও সুদসহ আদায় করা হচ্ছে।

ভ্যাট গোয়েন্দার দল বিভিন্ন সময়ে মাঠে কাজ করছে এবং কোনো অভিযোগ আসলে তা অনুসন্ধান করে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের এই কার্যক্রম দেশে ভ্যাট সংক্রান্ত করবান্ধব সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।