• ১৫ই মে, ২০২১ ইং , ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৩রা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরী

বাংলাদেশের অংশ কমিয়ে চীনের অংশ বাড়ানো হয়েছে

newsup
প্রকাশিত এপ্রিল ২২, ২০২১
বাংলাদেশের অংশ কমিয়ে চীনের অংশ বাড়ানো হয়েছে

নিউজ ডেস্কঃ করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার প্রথম দিকে গত বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টে বিশ্বব্যাপী তৈরি পোশাকের আমদানি ২৩ শতাংশ কমে যায়। তারপরও চীনের বাজার হিস্যা (মার্কেট শেয়ার) বেড়েছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নিট পোশাক রপ্তানিতে চীনের হিস্যা ছিল ৩৪ শতাংশ। গত বছরের জুনে সেটি বেড়ে ৩৯ শতাংশ হয়। একই সময়ে ওভেন পোশাকে চীনের হিস্যা বেড়ে ৩৬ থেকে ৪৫ শতাংশ হয়েছে।

বিশ্ববাজারে নিট ও ওভেন পোশাকে চীনের হিস্যা বাড়লেও বাংলাদেশের কমেছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নিট পোশাকের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা ছিল ৮ শতাংশ। গত বছরের জুনে সেটি ২ শতাংশ কমে ৬ শতাংশ হয়। আর ওভেন পোশাকের হিস্যা ৭ শতাংশ থেকে কমে ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে ব্র্যান্ডগুলো আশ্বাস দিয়েছে, অনিশ্চয়তা থাকলেও বাংলাদেশ ভবিষ্যতে তাদের কাছে শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক সরবরাহকারী দেশ হিসেবে থাকবে।

‘বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় পোশাক খাতের পুনরুদ্ধার: সরবরাহ ব্যবস্থাভিত্তিক সমাধান কি সম্ভব’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সংলাপে এসব তথ্য জানানো হয়। নেটওয়ার্ক সাউদার্ন ভয়েজের সহযোগিতায় ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজ অব শ্রীলঙ্কা (আইপিএস) এবং বাংলাদেশের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) যৌথভাবে গত মঙ্গলবার রাতে ভার্চ্যুয়াল সংলাপটির আয়োজন করে। সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। এতে আরও অংশ নেন সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান।

মূল্য বক্তব্যে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও আইপিএসের অর্থনীতিবিদ কিথমিনা হিউজ বলেন, “করোনাকালে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় পোশাক ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। তাতে পোশাকশ্রমিকেরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কিন্তু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। মহামারিকালে ক্রয়াদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কাসহ কয়েকটি বড় সরবরাহকারী দেশকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো চীন থেকে ২০০ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাংলাদেশসহ অন্য রপ্তানিকারক দেশগুলোকে দিলে তাদের ঘুরে দাঁড়ানো সহজ হবে। চীনের সেসব ক্রয়াদেশ পূরণ করার সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে।”

শ্রীলঙ্কার উদ্যোক্তা হুসনি সালিহ বলেন, “সরবরাহব্যবস্থার সব অংশীদার একসঙ্গে কাজ করলে বর্তমান সংকট উত্তরণ সহজ হবে। দেশটির আরেক উদ্যোক্তা বিনু বিক্রমাসিংহে বলেন, ‘করোনার প্রথম ধাক্কায় আমরা ছোট উদ্যোক্তারা কোনো সহায়তা পাইনি। তারপরও আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি, যদিও বিষয়টি সহজ ছিল না। মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে ধাক্কা খেলে টিকে থাকতে পারব কি না, সেটি নিয়ে সন্দেহ আছে।”

অবশ্য ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কোনো পরিবর্তন নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের এমডি মোস্তাফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, “অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের উদ্যোক্তাদের ২০-৩০ বছরের ব্যবসায়িক সম্পর্ক। কিন্তু করোনাকালে একনিমেষে তারা ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত করে দিয়েছে। আমরা কোনো সদুত্তর পাইনি। একটি মেইলেরও জবাব দেননি তথাকথিত দীর্ঘমেয়াদি অংশীদাররা। যতক্ষণ পর্যন্ত ক্রেতারা আমাদের মতো সরবরাহকারীদের তাদের ব্যবসার অংশীদার না ভাববে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা অংশীদার হতে পারব না।”

বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড এইচঅ্যান্ডএমের হেড অব সাসটেইনেবল (গ্লোবাল প্রোডাকশন) পিয়েরে বোরজেসন স্বীকার করেন, “করোনাকালে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা ও অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান নৈতিকভাবে ব্যবসা না করার কারণে এমনটি হয়েছে।”

পোশাকের ক্রয়াদেশ পুনর্বণ্টন ব্যবস্থাপনায় ক্রেতা ও সরবরাহকারী দেশকে একত্র করতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) উদ্যোগ নিতে পারে বলে মন্তব্য করেন সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, “করোনার তাৎক্ষণিক প্রভাব নয়, দীর্ঘমেয়াদি সংকট সমাধানে শ্রমিকদের জন্য বেকার বিমার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সরকার ও মালিকপক্ষের যৌথভাবে কাজটি করা দরকার।”

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০