• ৩০শে জুলাই, ২০২১ ইং , ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী

ঝুঁকিতে আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ দু’শতাধিক প্রতিষ্ঠান

ভয়েস অফ বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ৩, ২০২১
ঝুঁকিতে আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ দু’শতাধিক প্রতিষ্ঠান

নিউজ ডেস্কঃ  বাংলাদেশ ব্যাংক, কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি খাতের দু’শতাধিক প্রতিষ্ঠান সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে একটি আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপের পাঠানো ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

ভাইরাসটি ওসব প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল থেকে বিভিন্ন গোপনীয় তথ্য চুরি করে হ্যাকার গ্রুপের কাছে পাঠিয়েছিল। এসব তথ্য দিয়ে হ্যাকার গ্রুপটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালাতে পারত। ঘটনাটি আঁচ করতে পেরে সরকারের সাইবার থ্রেড রিসার্স ইউনিট থেকে সাইবার ল্যাবের মাধ্যমে অনুসন্ধান করে গত বৃহস্পতিবার এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

একই সঙ্গে সার্ট থেকে এ বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভাইরাসটি কীভাবে তাদের ই-মেইল থেকে অপসারণ করতে হবে সে বিষয়টিও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে খুব দ্রুতই সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ভাইরাসটি তেমন বেশি কিছু তথ্য চুরি করতে পারেনি। ফলে বড় ধরনের সাইবার হামলার কোনো আশঙ্কাও নেই। যেসব প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, আধুরি, সেলবিএন, র‌্যাংগস, এনাফুড, ডেটাপ্যাথ, অগ্নিসিস্টেমস লিমিটেড, বাংলা ট্র্যাক কমিউনিকেশন, বাংলাদেশ সরকারের কেন্দ্রীয় ওয়েব পোর্টাল, বিটিআরসি, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ, থার্মেক্স গ্রুপ, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড ও লংকা বাংলা ফিন্যান্স।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ও সার্টের প্রকল্প পরিচালক তারেক এম বরকতউল্লাহ বলেন, ভাইরাসটি তথ্য চুরি করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে অবস্থান করছিল। এটিকে শনাক্ত করে কীভাবে অকেজো করতে হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন আর বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি নেই। তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের এক্সচেঞ্জ সার্ভার ব্যবহার করে। যেহেতু সার্ভারটি আক্রান্ত হয়েছে সে কারণে তাদের সার্ভারটি আপডেট করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, তারা এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন। তাদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, হাফনিয়াম নামের আন্তর্জাতিক একটি হ্যাকার গ্রুপ ভাইরাসটি পাঠিয়েছে। এটি বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের তথ্য চুরি করছিল। গত মার্চ থেকে ভাইরাসটি এ কাজ করছিল। বিশেষ করে মাইক্রোসফটের এক্সচেঞ্জ সার্ভার যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে ওইসব প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে ভাইরাসটি অবস্থান করছিল। আন্তর্জাতিক ঘটনাটি জেনে সার্ট গত বৃহস্পতিবার তাদের সাইবার ল্যাবে অনুসন্ধান করে বাংলাদেশের দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পেয়েছে।

ভাইরাসটি মাইক্রোসফটের সাভারে সহজেই অবস্থান করতে পারে। কারণ ভাইরাসটি মাইক্রোসফটের সার্ভারটি আন্তর্জাতিকভাবেই হ্যাক করেছে। যে কারণে যেখানেই মাইক্রোসফটের সার্ভার ব্যবহৃত হচ্ছে সেখানেই ভাইরাসটি পৌঁছে গেছে। এখন সার্ভারটিকে ক্লিন করে ভাইরাসটি অপসারণ করতে হবে। অপসারণের নিয়মাবলি সার্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে সার্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০