অভিনয়শিল্পীদের অনেকের কাছেই গান বাড়তি আনন্দ

প্রকাশিত: ১০:০২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২১

অভিনয়শিল্পীদের অনেকের কাছেই গান বাড়তি আনন্দ

বিনোদন ডেস্কঃ  অভিনয়শিল্পীদের অনেকেই ভালো গাইতে পারেন। তাঁদের কেউ কেউ আবার গাইতে ভালোও বাসেন। শ্রোতারাও ভালোবাসেন তাঁদের গান। কেউ কেউ প্লেব্যাকে গেয়েও হয়েছেন বেশ আলোচিত। অডিও প্রযোজকেরা তাই প্রায়ই এই শিল্পীদের কণ্ঠে তুলে দেন নতুন-পুরোনো গান। গান এই শিল্পীদের কাছে কতটা উপভোগ্য?

ফজলুর রহমান বাবু টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা। এমনকি তাঁর কণ্ঠে ‘নিথুয়া পাথারে’, ‘ইন্দুবালা’, ‘অল্প না বয়সে’ কিংবা ‘সোনাই হায় হায় রে’ গানগুলো শ্রোতাপ্রিয় হয়েছে। এমনকি এখনো নিয়ম করে গাওয়ার জন্য ডাক পান তিনি। থিয়েটার থেকেই তাঁর গানের চর্চা শুরু। এরপর টি ডব্লিউ সৈনিক ও চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে বের হলো অ্যালবাম ‘মনচোরা’, গাইলেন ‘ঘেটুপুত্র কমলা’, ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায়।

ফজলুর রহমান বাবু জানান, অভিনয়ের সঙ্গে গানের সম্পর্ক নিবিড়। থিয়েটার করতে গিয়েই গানের অনুশীলন করা হয়ে যেত। কেমন উপভোগ করেন তিনি? বাবু বলেন, ‘আমি গায়ক নই, কিন্তু গাইতে পছন্দ করি। শ্রোতারা আমার গান পছন্দ করেন। এ জন্য ভেতর থেকে গাওয়ার তাগিদ অনুভব করি। গান গাওয়া তাই দারুণ উপভোগ্য মনে হয়।’

নতুন শতকের গোড়ার দিকে ভূপেন হাজারিকার একটি গান ইত্যাদি অনুষ্ঠানে গেয়েছিলেন চঞ্চল চৌধরী। সেটিই ছিল তাঁর কণ্ঠে রেকর্ড করা প্রথম গান। এরপর গানের মিশ্র অ্যালবাম মনচোরা, তারপর কাভার গানের একক অ্যালবাম পালকি। মেহের আফরোজ শাওনের সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠে পিতা সিনেমায় গান করেছেন এই অভিনেতা। সর্বশেষ শাওন-চঞ্চলের গাওয়া ‘যুবতী রাঁধে’ রাতারাতি ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মৌলিক গানের সংখ্যা ১৫।

চঞ্চল জানালেন, শখ করে গান করেন তিনি। ভক্তদের ভালো লাগাই নিজের ভালো লাগা। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ হঠাৎ অনুরোধ আসে। আমিও উপভোগ করি। যদিও এটা আমার মূল কাজ নয়। তবু আনন্দ নিয়েই করি। গান বা অভিনয়, নিজের কাজ দর্শকের ভালো লাগলে নিজেরও ভালো লাগে। দর্শক-শ্রোতার চাহিদার কারণেই মাঝেমধ্যে গানটা গাওয়া হয়।’

অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনের কাছে গান একান্তই তাঁর নিজের। শৈশব থেকেই চর্চা থাকলেও একটা সময় অভিনেত্রী হিসেবেই পরিচিতি পান তিনি। ‘যদি মন কাঁদে’, ‘চলো না যাই বসি নিরিবিলি’সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় গান রয়েছে তাঁর। শ্রাবণ মেঘের দিন, কৃষ্ণপক্ষসহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় গেয়েছেন তিনি। শাওন বলেন, ‘নাটক, সিনেমা দর্শকের জন্য করা। কিন্তু গান একান্ত নিজের ভালো লাগা থেকেই করি। কেউ না শুনলেও নিজের গান নিজেই উপভোগ করা যায়। যদিও গান ছোট, বড়, বৃদ্ধ সবার কাছে আবেদন রাখে।’

আরেক অভিনেতা শামীম জামানও গান করেন। তাঁর গাওয়া ‘জামাই মেলা’, ‘পরান বন্ধু রে’, ‘একটি চিঠি’ গানগুলো শ্রোতাদের প্রীতি কুড়িয়েছিল। এ ছাড়া দুটি অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর গাওয়া দুটি মৌলিক গানের অ্যালবামও প্রকাশিত হয়। শামীম জামান জানান, সম্প্রতি আরও একটি নতুন গান করেছেন তিনি। প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে সেটি। তিনি বলেন, ‘মানুষ আমার গান পছন্দ করেন। এ কারণে মাঝেমধ্যেই গাইতে ডাক আসে। গান গাওয়া আমার কাছে নিশ্বাস ফেলার মতো স্বস্তির। মনে হয় যেন সব কষ্ট ভেতর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।’

শুধু তাঁরাই নন, শখ করে অভিনেতা শাকিব খান, শাবনূর, নুসরাত ফারিয়া, সজলরাও দু–একটি গান করেছেন