আধুনিক সুবিধা না থাকায় বছরে কোটি টাকার কাঁচা চামড়া নষ্ট হচ্ছে

প্রকাশিত: ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০২১

আধুনিক সুবিধা না থাকায় বছরে কোটি টাকার কাঁচা চামড়া নষ্ট হচ্ছে
নিউজ ডেস্কঃ  দেশে অন্যতম রপ্তানিজাত পণ্য চামড়া। দীর্ঘ সময়েও চামড়া সংরক্ষণ ও চামড়া ছাড়ানোর আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপনে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আধুনিক সুবিধা না থাকায় বছরে কোটি টাকার কাঁচা চামড়া নষ্ট হচ্ছে। বর্তমান প্রক্রিয়ায় কাঁচা চামড়া লবণ দিয়ে দুই-তিন মাসের বেশি সময় সংরক্ষণ করা যায় না। এ কারণে অতিমুনাফালোভী কতিপয় ট্যানারি মালিকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন কাঁচা চামড়ার পাইকারি বিক্রেতারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উন্নত প্রযুক্তির কসাইখানা এবং কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে কোল্ডস্টোরেজের ব্যবস্থা করা গেলে বছরে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও মন্দার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হতো। এখনো সনাতন প্রক্রিয়ায় চামড়া সংরক্ষণ ও পৃথককরণের কাজ হচ্ছে। সরকারি বা বেসরকারিভাবেই চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

আড়তদার ব্যবসায়ীরা জানান, ট্যানারির মালিকেরা কোরবানির সময় সরকারের সহযোগিতায় ব্যাংক ঋণ পেয়ে থাকেন। বছরে ৪০০-৫০০ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ পেলেও তারা এসব টাকা চামড়াশিল্পের উন্নয়নে খরচ করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্য ব্যবসায় ব্যাংক ঋণের টাকা ব্যবহার করেন।

দেশে একমাত্র ঢাকা ছাড়া বাইরে পর্যাপ্ত ট্যানারি শিল্প গড়ে ওঠেনি। চট্টগ্রামে একসময় ১৫-১৬টি ট্যানারি ছিল। বন্ধ হতে হতে এখন একটিমাত্র ট্যানারি রয়েছে। তারা সীমিত পরিমাণে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে থাকে। পরিবেশদূষণের অভিযোগ এনে আরেকটি ট্যানারি এক বছর আগে বন্ধ করে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পাইকারি কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রাম জেলায় কোরবানির সময় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ পিস পশুর চামড়া সংগ্রহ হয়ে থাকে।

কোরবানিসহ সারা বছরে চট্টগ্রামে ১২-১৩ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহ হয়ে থাকে, যার বাজারমূল্য কম করে হলেও বছরে ৬০ কোটি টাকা। বর্তমানে এসব কাঁচা চামড়া লবণযুক্ত করে গুদামে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। দুই-তিন মাস পর বিক্রি করে না দিলে চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। লবণ ছাড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বিক্রেতারা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে চামড়ার ন্যায্যমূল্য মিলছে না। গত চার-পাঁচ বছর যাবৎ দেশে পানির দামে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে।

জানা যায়, যশোরে একটি শিল্প গ্রুপ কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করেছে। তারা সুফলও পাচ্ছে। জানতে চাইলে ট্যানারি মালিক তারিকুল ইসলাম খান বলেন, কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা থাকলে চামড়া খাত লাভবান হতো। কিন্তু আমাদের দেশে এই ব্যবস্থা হচ্ছে না। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি সংযুক্ত কসাইখানাসহ কোল্ডস্টোরেজের ব্যবস্থা রয়েছে।

দেশের অন্যতম রপ্তানি খাত চামড়াশিল্পকে ধরে রাখতে হলে দেশের প্রতিটি জেলা শহরে আধুনিক কসাইখানা ও কোল্ডস্টোরেজের ব্যবস্থা গড়া জরুরি। জবাই করা পশুর চামড়া পৃথক এনালগ প্রক্রিয়ায় করার কারণে প্রচুর চামড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের ট্যানারি মালিক আবু মোহাম্মদ বলেন, লবণ ছাড়াই কোল্ড স্টোরে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করা যায়। লবণ দিয়ে রাখলে কয়েক মাস পর চামড়া নষ্ট হয়ে ছিদ্র হয়ে যায়। কোল্ডস্টোরেজের ব্যবস্থা থাকলে চামড়াশিল্প লাভবান হতো। কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কেউ এগিয়ে আসছে না।

চট্টগ্রামে কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণের জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসেছিলেন। কিন্তু জায়গার অভাব ও আর্থিক সংকটে কোনো ব্যবসায়ী এগিয়ে আসছেন না। চট্টগ্রামে প্রায় ২৫০ জন আড়তদার কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী ছিলেন। লোকসানের কারণে অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। বর্তমানে ৩০-৩৫ জন আড়তদার চামড়া ব্যবসায়ী রয়েছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমবায় সমিতির সহসভাপতি আবদুল কাদের বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদের ডেকেছিলেন। কোল্ডস্টোরেজ করতে জায়গা ও অর্থের প্রয়োজন। জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। এই খাতে আমরা ব্যাংক ঋণের সুবিধা পাই না। ব্যাংক ঋণ পান ট্যানারির মালিকেরা। তারা চাইলে করতে পারেন। কোল্ডস্টোরেজের ব্যবস্থা থাকলে চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাওয়া যেত। ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে হতো না।