অনশনে থাকা দুই শিক্ষার্থী হলেন- প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নুর হোসাইন এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের নাঈম শেখ।

অনশনে থাকা নুর হোসাইন বলেন, ‌‘গত তিন বছর যাবত তৃতীয় বর্ষে পরে আছি। পরীক্ষার জন্য উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিলে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন তিনি। এক মাস হলেও কোনও উত্তর আসেনি। আজ উপাচার্যের সঙ্গে কথা বললে তিনি রােেষ্ট্রর সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা নিতে পারবেন না বলে জানান। আমরা হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। এ হতাশার কারণে যদি কেউ দুর্ঘটনা ঘটায় তখন এর দায়িত্ব কী বিশ্ববিদ্যালয় নেবে?’

আমরণ অনশনে থাকা ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম শেখ বলেন, ‘আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। একদিকে পরিবারের দায়িত্ব, অপরদিকে স্নাতক শেষ করতে না পারা। এমন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। আমরা যেকোনো মূল্যে ঈদের আগে পরীক্ষা শেষ করতে চাই। সেটা যেভাবেই হোক না কেন। তা না হলে এটা আমাদের জন্য চাপ হয়ে যাবে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা অনশনে বসেছি।’

এ দিকে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসানসহ প্রক্টরিয়াল টিম, প্রাধ্যক্ষ্য কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এ মামুন সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা এসে অনশন থেকে সরে আসতে শিক্ষার্থীদের বুঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অনশনরত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার তারিখ না দেওয়া পর্যন্ত এখানে থাকবেন বলে জানান। পরে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে অনশনে থাকা শিক্ষার্থী ও একাত্মতা প্রকাশকারী শিক্ষার্থীদের নাম ও বিভাগের নাম লিখে নেওয়া হয়।

এর আগে তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। কোনো সাড়া না পাওয়ায় ২ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন তারা। উপাচার্য তিন কার্যদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবেন বললেও এক মাসেও কোন সিদ্ধান্ত দেননি বলে জানান শিক্ষার্থী।