ক্যান্সারের গবেষণায় বেশি গুরুত্বারোপ দেয়ার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১২:১৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১

ক্যান্সারের গবেষণায় বেশি গুরুত্বারোপ দেয়ার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেক্সঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসাবিজ্ঞান বিশেষ করে ক্যান্সারের ওপর আরো গবেষণায় গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, দেশের পরিবেশ এবং জলবায়ুর সাথে ক্যান্সার কিভাবে বিস্তার লাভ করে সে জন্য গবেষণা দরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে গবেষণার সুযোগ খুবই কম। বিশেষ করে চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা খুব বেশি একটা হচ্ছে না। যেটা হওয়া একান্তভাবে প্রয়োজন।’ তিনি আরো বলেন, ‘ক্যান্সার এমন একটা রোগ এবং যেভাবে এর প্রাদুর্ভাব হচ্ছে তার সেভাবে ডায়াগনোসিস আমাদের দেশে হচ্ছে না। দেশের পরিবেশ এবং জলবায়ুর সাথে এই ক্যান্সার কিভাবে বিস্তার লাভ করে সেটার চিকিৎসার জন্য যে গবেষণা দরকার সেটা আমাদের দেশে খুব কমই হচ্ছে।’
শেখ হাসিনা গতকাল সকালে ‘কুমুদিনী ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সাইন্স অ্যান্ড ক্যান্সার রিসার্চ’ নামে নারায়ণগঞ্জে একটি ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার ও হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুমুদিনী কমপ্লেক্স নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে সাথে যুক্ত হন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ’৯৬ সালে সরকার গঠনের পর রিসার্চের জন্য অনেকগুলো ইনস্টিটিউট তৈরি করে দিয়েছিলাম এবং পরে ক্ষমতায় এসে সেগুলোকে আরো উন্নত করার পাশাপাশি আরো নতুন ইনস্টিটিউট করে দিয়েছি। কারণ গবেষণা আমাদের জন্য একান্ত অপরিহার্য। শেখ হাসিনা বলেন, কুমুদিনী ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সাইন্স অ্যান্ড ক্যান্সার রিসার্চ’ শীর্ষক এই সেন্টারটা যখন তৈরি হবে তখন এ দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ মানুষ আরো ভালোভাবে পাবে। কারণ দেশের সব মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের সব বিভাগে অন্তত একটি করে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব বিভাগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হলে সেখানে রিসার্চের সুযোগ হবে। তবে, আমি মনে করি যে, বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, দানবীর রনদা প্রসাদ সাহার নাতি এবং কুমুদিনী ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব প্রসাদ সাহা, পরিচালক শ্রীমতি সাহা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট এবং এর প্রতিষ্ঠাতা রনদা প্রসাদ সাহার ওপর অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রচারিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ মে দানবীর রনদা প্রসাদ এবং তার পুত্র ভবানী প্রসাদকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নারায়ণগঞ্জে তাদের বাসভবন থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তারা আর ফেরেনি।
প্রধানমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের দেশের চিকিৎসকরাও গবেষণায় খুব একটা সময় ব্যয় না করে রোগী দেখেই সময় কাটান। আসলে যাদের রিসার্চ করার কথা সেসব চিকিৎসকরা রোগী দেখতে এত ব্যস্ত কাজেই হাতে গোনা খুব কমজনকেই আমি দেখি তাদের পাবলিকেশন্স এবং রিসার্চ।
যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালেই বঙ্গবন্ধু প্রতিটি ইউনিয়নে ১০ শয্যার একটি করে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা সেবা জনগণের একদম দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়াই তার লক্ষ্য ছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাস আসার পরেই সাত দিনের মধ্যে আমরা দুই হাজার ডাক্তার, ছয় হাজার নার্স এবং টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিয়েছি এবং ভবিষ্যতে আরো নিয়োগের পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য যা যা করা দরকার তার সরকার তা করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই পদক্ষেপের ফলে আজকে করোনাভাইরাস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ সময় প্রথম ভ্যাকসিন গ্রহিতা কুমুদিনী হাসপাতালের সিনিয়র নার্স বেরোনিকা ডি কস্তাকেও তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এক সময় টিকা দেয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও এখন আর কোনো সমস্যা নেই, সবাই আগ্রহ নিয়ে টিকা কেন্দ্রে আসছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বলে দিয়েছি ৪০ বছরের উপরে যারা তারা টিকা পাবে এবং আইডি কার্ড সাথে নিয়ে গেলে তারা ফর্ম পাবেন এবং রেজিস্ট্রেশনও করতে পারবেন। গত শনিবারও প্রায় এক লাখ ৯৪ হাজার মানুষ টিকা নিয়েছেন। আমরা তিন কোটি টিকা কিনে রেখেছি। একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সবাইকে আমরা টিকা দেবো।