শিক্ষার হাতছানি

প্রকাশিত: ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১

শিক্ষার হাতছানি

নিউজ ডেস্কঃবিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের হাত ধরে ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করেছিল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। দেশ ও দেশের বাইরে শিক্ষিত নেতৃত্ব তৈরিতে সক্ষম, এমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। ১১ হাজার বর্তমান শিক্ষার্থী ও ১১ হাজারের বেশি সাবেক শিক্ষার্থীকে নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এখন এক বিশাল পরিবার, যাঁরা সারা বিশ্বে দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছে।

২০১৯ সালে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেন। সে বছর ২৩ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম সমাবর্তনে প্রধান বক্তা হিসেবে শিক্ষার্থীদের সামনে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি।

বড় ধরনের সামাজিক পরিবর্তন ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশে কাজ করছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। সেই লক্ষ্যে এখানে যুক্তরাষ্ট্রের লিবারেল আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স প্রকল্পের শিক্ষাপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সেমিস্টার পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। একসঙ্গে ক্যাম্পাসে থাকা ও লেখাপড়ার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলতা ও সেবামূলক নেতৃত্বগুণ চর্চার সুযোগ পান তাঁরা।

২০২২ সালের শেষে নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব এক নতুন ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হওয়ার পরিকল্পনা করছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। সাভারে অবস্থিত ৩০ একরের আবাসিক ক্যাম্পাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য স্থাপনাকে পূর্ণতা দেবে এই নতুন প্রাঙ্গণ।

গবেষণা ও শিক্ষার নানা ক্ষেত্র

রোবটিকসসহ নানা ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বেশ কয়েকটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সুনাম আছে। রোহিঙ্গা সংকট, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ উন্নয়ন, উদ্ভাবনী স্থাপত্য এবং পোশাকশিল্পের ব্যবসায়িক উন্নয়নের মতো বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। জন হপকিনস ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল হেলথ স্বীকৃতি পেয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধীন জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ। এ ছাড়া বিশ্বসেরা ১০০ ‘থিঙ্ক ট্যাংক’–এর তালিকায় স্থান পেয়েছে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও নানা কার্যক্রমের সুবাদে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসের বিশেষ সুনাম আছে। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকাদান বণ্টন কৌশল নিয়ে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির সঙ্গে এক হয়ে কাজ করছে এই বিশ্ববিদ্যালয়।

ক্লাব ও সোসাইটির মাধ্যমে দক্ষতার চর্চা

শিক্ষার্থীদের ডিউক অব এডিনবার্গ পুরস্কারে অংশগ্রহণ ও স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের নানা ক্লাব ও সোসাইটিতে অংশ নিয়ে সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের চর্চা করার সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বিতর্ক, মডেল ইউএন, সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধুলা, বেড়ানো, চলচ্চিত্র, পরিবেশ, উদ্যোক্তাসহ নানা বিষয়ভিত্তিক ক্লাব ও সোসাইটি শিক্ষার্থীদের সমৃদ্ধ করছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জনের মাধ্যমে এরই মধ্যে নজর কেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিকস ক্লাব।

দেশি ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট স্থানান্তর

দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ক্রেডিট ট্রান্সফার’–এর সুযোগ পান ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। ক্রেডিট ট্রান্সফার সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিশন অফিসে।

পাঠদানের বিষয়

• ফার্মাসি

• আইন

• কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল

• তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল

• স্থাপত্য

• অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান

• ইংলিশ অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ

• ম্যাথমেটিকস অ্যান্ড ন্যাচারাল সায়েন্সেস

• গণস্বাস্থ্য

• বিজনেস স্টাডিজ

• ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ

• ল্যাঙ্গুয়েজেস

• এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট

• গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট

• ডেটা অ্যান্ড সায়েন্সেস

• জেনারেল এডুকেশন

ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা

• এসএসসি বা সমমান এবং এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় আলাদাভাবে ন্যূনতম জিপিএ-৩.৫ (ঐচ্ছিক বিষয়সহ) থাকতে হবে।

• গ্রেডিং স্কেল (এ=৫, বি=৪, সি=৩ এবং ডি=২) হিসেবে ও-লেভেলে ৫টি বিষয় এবং এ–লেভেলে ২টি বিষয়সহ আলাদাভাবে সর্বনিম্ন জিপিএ–২.৫ থাকতে হবে। কোনো বিষয়ে ‘ই’ গ্রেড গ্রহণযোগ্য নয়।

• কোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ বছর শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।

• আইবি-ডিপির শিক্ষার্থীরা ডিপিতে ন্যূনতম ২৪ স্কোর পেলে ভর্তির আবেদনের জন্য বিবেচিত হবেন।

• বাংলাদেশের বাইরে পড়া শিক্ষার্থীদের নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একাডেমিক নথিপত্রের যাচাই করা বা সত্যায়িত কপি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে সমমানের সনদ জমা দিতে হবে।

ভর্তিপ্রক্রিয়া

শিক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে পছন্দের বিষয়ে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। নির্দিষ্ট বিষয়ে ভর্তির যোগ্যতা আছে কি না, কিংবা ইংরেজি ও গণিতে বাড়তি যত্নের প্রয়োজন আছে কি না, তা যাচাই করতে শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট কিছু প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য বিশেষায়িত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়, যেমন—স্থাপত্যের শিক্ষার্থীদের ছবি আঁকার দক্ষতার পরীক্ষা দিতে হয়। কেউ কোনো বিষয়ের ভর্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলেও তাঁর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা আছে। যাঁদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে তাঁদের ‘প্রি-ইউনিভার্সিটি কোর্স’ করতে হয়।