• ১৩ই মে, ২০২১ ইং , ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১লা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরী

“সানগ্লাস পরা এক বাঘের গল্প”

newsup
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২১
“সানগ্লাস পরা এক বাঘের গল্প”

আসাদ জোবায়ের: রোদ ঝলমল এক দুপুরের গল্প। গল্পটা একটা অহঙ্কারী বাঘের। বাঘটা যাচ্ছে বিয়ে করতে। বিয়ে করবে এক রাজকন্যাকে। রাজকন্যা খুব সুন্দরী। সুন্দর করে তাই বাঘটি ছেটে নেয় তার গোঁফ। গোঁফের ঠিক উপরে নাক। নাকের ওপর সানগ্লাস। সানগ্লাস সে রোদ থেকে বাঁচতে পরেছে। পরেছে এক লাল টোপরও। টোপর না পরলে কি বিয়ের সাজ হয়? হয় না তো।

কোত্থেকে ছুটে এলো এক দমকা বাতাস। বাতাসের তোড়ে চোখ থেকে সানগ্লাস উড়ে গেল। উড়ে গেল মাথার টোপরও। টোপর আর সানগ্লাস হারিয়ে মেজাজ বিগড়ে গেল। বিগড়ে যাওয়া মেজাজ নিয়ে বিয়ে করতে যাওয়া যায়? যায় না তো।

পাশেই ছিল একটা প্রকাণ্ড বটগাছ। বটগাছের তলায় গিয়ে মাথা কুটতে থাকে বাঘ। বাঘের এমন কাণ্ড থেকে অবাক হয়ে গেল বটগাছ। বটগাছ তাকে বলল- বলো তো ভাই তোমার কি হয়েছে?

-হওয়ার আর বাকি আছে কি? কিসের মুখ দেখে যে আজ বের হয়েছিলাম বিয়ের সাজে? সাজ আর থাকল কোথায়? কোত্থেকে এক বদমায়েশ বাতাস এসে সানগ্লাস, টোপর উড়িয়ে নিয়ে গেল যে। যে রোদ পড়েছে, কেমনে যাই বলো তো?

– তো আর কি করবে?

– করতে তো হবেই আমাকে বিয়ে।

-বিয়েই যখন করবে, আমি রোদ আর বাতাসকে নিষেধ করে দেব, না আসে যেন এই বনে।

বটগাছের অনুরোধে সূর্য চলে গেল মেঘের আড়ালে। আড়াল খুঁজে নিল বাতাসের দিক। এদিক ওদিক খুঁজে, অবশেষে পাওয়া গেল মাথার টোপর ও সানগ্লাস। সানগ্লাসের অবশ্য আর দরকার নেই, নেই কোন রোদ যে। যে দিকে যাচ্ছিল, সেদিকেই হাঁটা শুরু করলো বাঘ। বাঘের খুশি আর কে দেখে? দেখিয়ে দেখিয়ে নাচতে নাচতে গেল বিয়ে করতে।

কয়েক দিন পরের গল্প। গল্পটা মন খারাপের। খারাপ কিছুই হয়েছে বাঘে সঙ্গে। সঙ্গে তার কেউ নেই, নেই সঙ্গী-সাথী কিংবা নতুন বউ। বউ না আনতে পেরে খুব বিমর্ষ হয়ে গেছে বাঘ। বাঘের এমন চেহারা দেখে অবাক হয়ে বটগাছ বলল- বলো দেখি এমন কি হলো তোমার? তোমার সঙ্গে তো বউ আসার কথা ছিল।

-ছিল, এখন আর নেই বুড়ো বটগাছ।

-বুড়ো বটগাছ বলে আমাকে গালি দিচ্ছ? দিতেই পার, পারবে কি বলতে আমার কী অপরাধ?

– অপরাধ ঢের করেছ, রোদ-বাতাসকে আসতে নিষেধ করেছ।

– করেছি তো তোমার কথায়। কথায় কথায় তুমি রাগ দেখাও, দেখাও অহঙ্কার।

– অহঙ্কার আমারই সাজে, আমিই বনের রাজা।

– রাজা আর প্রজা মিলেমিশেই থাকতে হয়। হয়েছে কি সেটা এবার খুলে বলো তো।

– বলছি তবে শোন, রোদ নেই, নেই বাতাসও। বাতাস না থাকায় গান গায়নি পাখিরা, ফোটেনি ফুলও। ফুল-পাখি না থাকায় রাজকন্যা জানিয়ে দিল সে বিয়ে করবে না। না মানে না, মুখ বন্ধ করে বসে রইল। রইল পড়ে রাজ প্রাসাদ, প্রাসাদ ভরা মেহমান, মান-সম্মান নিয়ে এলাম ফিরে।

– ফিরে এসেছ ভাল করেছ। ভাল করে এই কথাটা ঢুকিয়ে নাও মাথায়। মাথা ছাড়া যেমন শরীর অচল, পা ছাড়াও তেমন চলতে পারে না কেউ। কেউ কাউকে অবহেলা করা ঠিক নয়। ঠিক না অহঙ্কার করা। অহঙ্কারী বড় একা। একা একা কি বাঁচা যায়, যায় না যে।

– যে যেখানে আছে সবাইকে ডাকো। ডেকে এনে বলো, আমরা সবাই এক সঙ্গে থাকব এখন। এখন থেকে আমরা সবাই রাজা এই বনে।

বনের রাজা বাঘের ঘোষণায় খুশির জোয়ার এলো। এলো বাতাস, উঠল রোদ। রোদের উমে ফুটল ফুল। ফুলের গন্ধে প্রজাপতি নেচে উঠল। উঠল বেজে বিয়ের বাজনা। বাজনা বাজিয়ে আবার বিয়ে করতে যাবে বাঘ, কি মজা কি মজা!

 

 

 

 

 

 

 

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮