বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বিশ্বসেরাদের অন্যতম: হাছান মাহমুদ

প্রকাশিত: ৪:০৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩১, ২০২০

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বিশ্বসেরাদের অন্যতম: হাছান মাহমুদ

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, করোনাপীড়িত ২০২০ সালেও শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে তা বিশ্বে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশগুলোর অন্যতম।

বছরের শেষদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তথ্যমন্ত্রী একথা বলেন।

 

এর আগে তিনি জাতীয় গণমাধ্যম ইন্সটিটিউট (এনআইএমসি) আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও গণমাধ্যম’ শীর্ষক অনলাইন সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন তিনি।

এনআইএমসি’র মহাপরিচালক শাহিন ইসলামের সভাপতিত্বে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, তথ্য সচিব খাজা মিয়া এবং মন্ত্রণালয়ের সংস্থা প্রধানরা সেমিনারে সংযুক্ত হন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারীর বছরে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে বিশ্বের ধনাত্মক প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী মাত্র ২২টি দেশের অন্যতম স্থান অধিকার করেছে। এই ২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ওপরের দিকেই। ব্লুমবার্গ প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ উপমহাদেশের মধ্যে প্রথম ও সমগ্র বিশ্বের মধ্যে ২০তম।’

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সেন্টার ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ড. হাছান বলেন, তারা বলছে, বাংলাদেশ ২০৩০ সাল নাগাদ ২৮তম অর্থনীতির দেশ হবে, ২০৩৫ সাল নাগাদ হবে পৃথিবীর ২৫তম অর্থনীতির দেশ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে আমাদের অন্যতম বড় অর্জন হচ্ছে, কোনো বৈদেশিক সাহায্য ছাড়া সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। করোনাকালেও বাংলাদেশে মানুষের মাথাপিছু আয় ১৯০০ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০৬৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। সম্প্রতি আইএমএফ রিপোর্ট বলছে, আগামী বছর বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার কারণে এই করোনা মহামারীর প্রতিবন্ধকতা জয় করে দেশে শারীরিক-সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেও সরকারযন্ত্র, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করে মহামারীতে একজন মানুষও না খেয়ে মৃত্যুবরণ করেনি।

মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও গণমাধ্যম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের চারটি স্তম্ভের মধ্যে গণমাধ্যম স্তম্ভ সুদৃঢ় থাকলে রাষ্ট্রও সুদৃঢ় থাকে। সে কারণে বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্নের ঠিকানায় বাংলাদেশকে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন, সে লক্ষ্যে স্বাধীনতার পরপরই তার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, প্রেস ইন্সটিটিউট ও ওয়েজবোর্ড। সেই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণমাধ্যমের স্বাধীন ও সুষ্ঠু বিকাশে বহু পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং তার হাত ধরে দেশের গণমাধ্যম যেভাবে বিকশিত হয়েছে, সেটি অতুলনীয়। আমরা বিশ্বাস করি, গঠনমূলক সমালোচনা সমাজকে বহুমাত্রিক ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।

বিএনপি অন্ধকারের মধ্যে আছে: আগামী বছর বিএনপি’র চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি নিজেরা চোখ বন্ধ করে অন্ধকারের মধ্যে আছে, সেজন্য চারদিকে অন্ধকার দেখছে। আমি আশা করব তারা আগামী বছর চোখটা খুলে আলো দেখবেন। আর বিএনপি’র যে নেতৃত্ব, সেই নেতৃত্বে তারা জনগণ থেকে ক্রমাগতভাবে দূরে সরে গেছে। আশা করি, আগামী বছর বিএনপি নেতিবাচক রাজনীতির ধারা থেকে বেরিয়ে ইতিবাচক রাজনীতিতে ফিরে আসবে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই করোনাকালে যেভাবে জনগণের পাশে থাকার দরকার ছিল, বিএনপিসহ তাদের মিত্ররা তা থাকেনি। সরকারের প্রতি বিষোদগার ও সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। জনগণকে প্রাধান্য না দিয়ে তারা তাদের হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও দলীয় স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।