মনের কথা লিখে দেবে ফেসবুক

প্রকাশিত: ১২:৫৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৭, ২০২০

মনের কথা লিখে দেবে ফেসবুক

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় এবং নানা কারণে আলোচিত-সমালোচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবার নিউরন থেকে সরাসরি মানুষের ভাবনা সংগ্রহ করে অক্ষরে পরিণত করতে সক্ষম প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।

সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক মানুষের মস্তিষ্কের ভাবনা বোঝার ডিভাইস আবিষ্কার করতে বেশ কয়েক বছর ধরে চেষ্টা করছে। বিষয়টি নিয়ে তারা বিভিন্ন সময়ে অল্পস্বল্প ধারণাও দিয়েছে।

 

নিউরাল সেন্সরভিত্তিক একটি রিস্টব্যান্ড তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের ছোট স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠান সিটিআরএল ল্যাব-এর সঙ্গে তৈরি কাজ করছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্টটি।

প্যারালাইসিস রোগীদের সাহায্য করতে পরীক্ষামূলকভাবে মনের কথা লেখার জন্যই ফেসবুক এ ডিভাইসটি বাজারে আনতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে এক প্রতিবেদন। সূত্রটি জানিয়েছে, মস্তিষ্কের সংকেত ডিকোড করে অক্ষরে রূপান্তর করতে বানানো হচ্ছে রিস্টব্যান্ডজাতীয় একটি ডিভাইস। ডিভাইসের মাধ্যমে মানুষের ব্রেন কম্পিউটারের সঙ্গে সংযোগ পাবে! ফেসবুকের সিটিও মাইক শ্রোফার বলেছেন, ‘আমরা নতুন অভিজ্ঞতার পথ প্রশস্ত করছি, যা অতিরঞ্জিত না হলে কোটি কোটি মানুষের জীবন উন্নত হবে।’ সূত্রটি বলছে, ফেসবুকের বার্ষিক সভায় নতুন নিউরাল সেন্সর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ওই সভার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি সংবাদমাধ্যমটি। শুধু বলা হয়েছে, কর্মীদের উদ্দেশ্যে পাঠানো একটি অডিও রেকর্ডে এ ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। দ্রুত সেটি আনার চেষ্টা চলছে।

ফেসবুকের ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি-প্রধান অ্যান্ড্রু বসওয়ার্থ কয়েকমাস আগে বলছেন, আমরা দেখেছি প্রযুক্তি এবং ডিভাইস দিয়ে আরও স্বাভাবিকভাবে ভাব বিনিময় করা সম্ভব। আর সেটি আমরা তৈরি করতে চাই।

২০১৭ সালে এ ধরনের প্রযুক্তির ঘোষণা দেয়ার এক বছরের মধ্যে ব্রেন-মেশিন ইন্টারফেস গবেষণায় বিনিয়োগ করে তারা। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, প্যারালাইসিস রোগীদের সাহায্য করতে পরীক্ষামূলকভাবে মনের কথা লেখার প্রযুক্তি আনা হচ্ছে। মস্তিষ্কের সংকেত ডিকোড করে এভাবে অক্ষরে রূপান্তর করা হবে।

শেফিল্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক মাহনাজ আরবনেহে এ পদ্ধতিটিকে ‘নন-ইভ্যাসিভ টেকনিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মানুষের মস্তিষ্কের ওপর এ ধরনের ডিভাইস নিয়ে কাজ করেন। তার ভাষায়, এ প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎবাহক মাথার খুলির ওপরে পৌঁছাবে; ব্রেনের ভেতরে নয়। রেকর্ড করা হবে ইলেকট্রিক্যাল অ্যাক্টিভিটি।

টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কও কয়েক বছর ধরে বলছেন, তারা এমন ডিভাইস নিয়ে কাজ করছেন, যেটি প্যারালাইজড মানুষের মনের কথা পড়তে পারবে।