করোনার বছরে বিশ্ব ফুটবলের হালহকিকত

প্রকাশিত: ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০২০

করোনার বছরে বিশ্ব ফুটবলের হালহকিকত

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে থমকে গিয়েছিল বিশ্ব, আঁচ লেগেছিল ক্রীড়াঙ্গনেও। আতঙ্কিত সময়ে একের পর এক প্রতিযোগিতা স্থগিতের খবরে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল মাঠের ফুটবল। সারা বছর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রাণঘাতী ভাইরাস। কিন্তু জীবন তো থেমে থাকার নয়, তাই ফিরেছে ফুটবলও; স্বাস্থ্যবিধি মেনে। বুন্দেসলিগায় বায়ার্নের দাপট, রিয়ালের ঘুরে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে বার্সেলোনার ভরাডুবি ছিল আলোচনায়। আর বছরের শেষ দিকে এক কিংবদন্তিকে হারানোর শোক এখনও কাটেনি। রাইজিং বিডির পাঠকদের নিয়ে ফিরে দেখা যাক, কেমন ছিল এ বছরের বিশ্ব ফুটবল-

মাঠে ফুটবল প্রত্যাবর্তনের অগ্রপথিক বুন্দেসলিগা

করোনার কারণে ইতালিয়ান সিরি আ, স্প্যানিশ লা লিগা ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পর স্থগিত হয় বুন্দেসলিগাও। তবে দ্রুত তারা মাঠে ফেরার বন্দোবস্ত করে। করোনা মহামারির মধ্যে ফুটবল ভক্তদের মনে সবার আগে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে বুন্দেসলিগা। ১৩ মার্চ স্থগিত হওয়ার দুই মাসের বেশি সময় পর জার্মান শীর্ষ লিগ দিয়ে করোনা পরবর্তী সময়ে সবার আগে মাঠে ফেরে ফুটবল। রুদ্ধদ্বার স্টেডিয়ামে ১৬ মে থেকে শুরু হয় ফুটবল লড়াই। দর্শকশূন্য মাঠে অচেনা পরিবেশ ছাপ ফেলেনি দোর্দণ্ড প্রতাপশালী বায়ার্নের খেলায়। পর পর সাতটি জয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখে রেকর্ড টানা অষ্টম বুন্দেসলিগা শিরোপা উদযাপন করে বাভারিয়ানরা।

ফিরে চমকে দিলো রিয়াল

করোনাভাইরাসে জুবুথুবু ক্রীড়াঙ্গনে ফিরেছিল স্বস্তি। বুন্দেসলিগার পথ ধরে ১১ জুন মাঠে ফেরে লা লিগা। তিন মাসের এই আকস্মিক বিরতি যেন রিয়াল মাদ্রিদের জন্য পয়মন্ত হয়ে এসেছিল। নতুন করে শুরুর আগে শীর্ষ দল বার্সেলোনার চেয়ে ২ পয়েন্ট পেছনে ছিল মাদ্রিদ ক্লাব। বার্সার ছন্দ হারানোর সুযোগে রিয়াল শেষ ১১ ম্যাচে টানা ১০টি জিতে লা লিগা শিরোপা পুনরুদ্ধার করে। ১৬ জুলাই ভিয়ারিয়ালকে হারিয়ে এক ম্যাচ আগেই ৩৪তম লিগ ট্রফি হাতে নেয় প্রতিযোগিতার ইতিহাসে রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা। পাঁচ পয়েন্ট পেছনে থেকে রানার্স আপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় আগের দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনাকে।

অস্বস্তি কাটিয়ে তিন দশকের প্রতীক্ষার অবসান

তিন দশকে প্রথম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতার স্বপ্নে লিভারপুলকে সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছিল করোনাভাইরাস। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা একের পর এক ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ১৩ মার্চ লিগ বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। তাতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ২৫ পয়েন্টে এগিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা লিভারপুল অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিন মাসের বেশি সময় পর ১৭ জুন মাঠে ফেরে প্রিমিয়ার লিগ।