‘ব্যথা নিয়েই খেলতে হবে, বলেছিলেন জামাল-ফিজিও’

প্রকাশিত: ৩:১১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০২০

‘ব্যথা নিয়েই খেলতে হবে, বলেছিলেন জামাল-ফিজিও’

কাতারের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ হেরেছে বাজেভাবে। তবে হৃদয় জয় করে নিয়েছিলেন গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। অনেক না পাওয়ার মধ্যে একমাত্র প্রাপ্তি তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার গোলপোস্টে দাঁড়ালেন বিশ্বকাপ বাছাইয়ের মতো ম্যাচে। ঘাবড়ে যাননি জিকো; গোলবার সামলেছেন সামনে থেকেই।

গত ৪ ডিসেম্বর কাতার বাংলাদেশের গোলবার লক্ষ্য করে শট নিয়েছে ৩২টি। এর মধ্যে গোল হয়েছে পাঁচটি। প্রথমার্ধে দুটি গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে হয় তিনটি। মাঝে অসাধারণ কিছু গোল বাঁচিয়েছেন জিকো। কোনও কিছুর তোয়াক্কা না করে কখনো ঝাঁপিয়েছেন ডানে, কখনও আবার বাঁয়ে।

 

ম্যাচের ৬৪ মিনিটের সময় ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁ দিকে লাফিয়ে গোল বাঁচাতে গিয়ে ব্যথা পান পায়ে। এরপর জিকো চেয়েছিলেন উঠে যেতে, মনে হয়েছে আর পারবেন না। কিন্তু অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া ও দলের ফিজিও জানিয়ে দেন, ব্যথা নিয়েই যে কোনোভাবে খেলতে হবে।
রাইজিংবিডিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন জিকো। গত শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছিল সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব। রোববার দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব প্রকাশ করা হলো পাঠকদের জন্য।

আপনি কাতারের বিপক্ষে ব্যথা পেয়েও খেলেছেন, কেন?

জিকো: আমার তখন মনে হচ্ছিল, আমি আর পারবো না। জামালও (ভূঁইয়া) যখন আসছিল ওদিক থেকে, আমি তাকে বলছিলাম আর পারবো না। তখন ফিজিও আসে সঙ্গে সঙ্গে। তারা বলেছেন, না; খেলতে হবে। ফিজিও বলছে, ‘যে কোনোভাবে তোমায় মাঠে থাকতে হবে। ম্যাচ শেষ করে আসতে হবে। তারপর ব্যথা নিয়েই পুরো ম্যাচ খেলে যাই।’

 

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আরও তিন ম্যাচ বাকি, এগুলোতে সুযোগ পাবেন বলে মনে করেন কী?

জিকো: জাতীয় দলে কেউ খারাপ খেলোয়াড় না। তাই ম্যাচে জায়গা পেতে সবাইকে নিজের সেরাটা দিয়েই খেলতে হবে। যেহেতু অনেক সময় আছে এখনও, কাতারের সঙ্গে ম্যাচটি আমরা অনেক বিরতির পর খেলেছি, এর মাঝে লিগের খেলাও হয়নি। তো ভবিষ্যতে আমরা আরও সময় পাবো, তখন নিজের কাছে আরও আত্মবিশ্বাস বেশি থাকবে।

আশরাফুল রানার সঙ্গে প্রতিযোগিতা হবে বলে মনে করেন?

 

জিকো: দেখুন, রানা ভাই অনেক দিন ধরেই জাতীয় দলে খেলতেছেন। এদিকে এখন রানা ভাইয়ের বয়সও হচ্ছে। এখনও এমন না যে, আমিই নিশ্চিত খেলবো। কোচ আমার অনুশীলন ও লিগের ম্যাচ দেখেই কিন্তু আমাকে নেবেন। তো দুজনের জন্যই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা ভালো। এখন রানা ভাই ও আমাকে লড়াই করে জায়গাটা নিতে হবে। আবার সোহেল ভাইও আছেন।

নিজের ক্লাব বসুন্ধরা কিংসের হয়ে কেমন পারফরম্যান্স আশা করছেন?

জিকো: আমি বসুন্ধরা কিংসের হয়েই সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলছি। যেহেতু আমাদের সামনে লিগের খেলাও আছে। তো এখানে যে ক্লিন-শিট আছে, তা আমি আরও ধরে রাখতে চাই। আমরা যেহেতু বড় একটা টিম, তো আমার নিজের ক্যারিয়ারের জন্য যা ভালো হবে তা করতে চেষ্টা করবো, যেন কম গোল খাই।