ভুটানের সঙ্গে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য শুরু হচ্ছে রোববার

প্রকাশিত: ১২:৩৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০২০

ভুটানের সঙ্গে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য শুরু হচ্ছে রোববার

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) সই হতে যাচ্ছে আগামীকাল রোববার। এর ফলে প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক পিটিএ হচ্ছে।

পিটিএর ফলে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আরও বেশি আমদানি–রপ্তানি করা সম্ভব। শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের বাজারে অপেক্ষাকৃত কম দামে পণ্য বেচাকেনা করা যায়। এ চুক্তি সইয়ের ফলে বাংলাদেশের ১০০টি পণ্য ভুটানে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। আর  ভুটানের ৩৪টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। পরে আলোচনার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে পণ‌্যের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশকে ভুটানের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়ার দিনেই দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী এই অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি সই করবেন। ১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান।

এর আগে আঞ্চলিক সহযোগিতার লক্ষ্যে ‘দক্ষিণ এশিয়া অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি’ (সাপটা) হয়েছিল, যা পরে ‘দক্ষিণ এশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’তে (সাফটা) পরিণত হয়। বর্তমানে সাফটার আওতায় উভয় দেশ পরস্পরকে বেশকিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়। এখন দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে আরও কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা মিলবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পিটিএ হলে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক বিনা শুল্কেই ভুটানে যাবে। এ ছাড়া পাট ও পাটজাতীয় পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, ফ্যান, ব্যাটারি, কনডেন্সড মিল্ক, সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্যেও শুল্কমুক্ত সুবিধা মিলতে পারে। অন্যদিকে, ভুটান থেকে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধায় অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত কম দামে পাথর, কাঠ, ফল ইত্যাদি আমদানি করতে পারবে।

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ-ভুটানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২০১২-১৩ অর্থবছরে ছিল ২৬.৫২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৭.৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রথম দিকে বাণিজ্যের ভারসাম্য বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকে থাকলেও এখন ভুটানের পক্ষে আছে। কারণ, পদ্মা সেতুসহ দেশের বড় বড় প্রকল্পের জন‌্য ভুটান থেকে বোল্ডার পাথর আমদানি করায় দেশটি থেকে আমদানি বেড়েছে।

জানা গেছে, ভুটানের পর থাইল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এছাড়া, আরও ১৭টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ‌্যে আলোচনা করছে সরকার। এসব দেশের মধ্যে আছে—ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, ব্রাজিল, চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া। এসব দেশের সঙ্গেও নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে এফটিএ শাখাকে শক্তিশালী করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের তথ্য মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে এখন ১৯৮টি দেশের বাণিজ্য চলছে। এর মধ্যে ৭১টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আছে। বিশাল এ ঘাটতি কমাতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ এবং পিটিএ সইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।