প্রচ্ছদ

কানাডায় নানা প্রতিরোধমূলক কর্মসূচির পরেও করোনা নির্মূল করা সম্ভব হয়নি

www.adarshabarta.com

কানাডায় আবারো কোভিড-১৯ ঝাকিয়ে বসছে। কানাডায় শুরু থেকেই নানা ধরনের সতর্কমূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হলেও করোনার বিস্তার এখনো কমেনি। গত সপ্তাহ থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ইতোমধ্যে তা কুইবেকে প্রভিন্সে এক হাজারেরও বেশি আর অন্টারিও প্রভিন্সে একদিনে ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা আগের বারের ভয়াবহ পরিস্থিতিকেও হার মানিয়েছে। অথচ মৃত্যু শুন্যস্থান থেকে আবার করোনা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গতকাল ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা কুইবেকে ১৪ এবং অন্টারিও-তে ৪ জন এবং আক্রান্তের সংখ্যা যথাক্রমে ১,১০৭ এবং ৬৫৩ জন।

 

দ্য বেঙ্গলি টাইম আরো জানিয়েছে, কানাডায় করোনা প্রথমেই হানা দেয় প্রধানমন্ত্রীর ঘরে এবং আক্রান্ত করে ফার্স্ট লেডিকে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো করোনা মোকাবেলা করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। নানা প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি হাতে নিলেও করোনা নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি কানাডার কোভিড-১৯ সংক্রমণ ক্রমাগতভাবে বেড়ে চলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধান জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. থেরেসা ট্যাম। সম্প্রতি কানাডায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সবকিছু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকলেও করোনা সংক্রমণ থামছে না। দেশটিতে গেল ২৪ ঘণ্টায় আরো ১ হাজার ৭৭৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশেজ্ঞরা জানিয়েছে যে, কানাডায় করোনায় মারা যাবে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ।

খবরে প্রকাশ, বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করার জন্যই করোনা জেগে উঠেছে। ফলে সরকার আবারও সোসাল ডিসটেন্সের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করছে।

উল্লেখ্য, কানাডায় এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ৯,৪৬০ জন। মৃত্যুর হার ৬%। আর ১৬৪,৪১৯ জন আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৩৮,৮৪৪ জন।

এদিকে কানাডা বিশ্ব থেকে কোভিড ভাইরাস নির্মূলে স্বল্প এবং মধ্য আয়ের দেশগুলোতে ভ্যাকসিনের জন্য ২২০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্টুডো।

অপর দিকে, মার্কিন যুক্তরাজ্যের প্রেসিডেন্ড ডোনাল ট্রাম্প এবং তাঁর স্ত্রী করোয়ায় আক্রান্তের খবরটি কানাডা জুড়ে ছিলো আলোচিত খবর।

গত মার্চ থেকে কানাদায় বিদেশি নাগরিকদের জন্য কানাডা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিলো। গত মঙ্গলবার কানাডা সরকার তিন ক্যাটাগরির বিদেশিদের জন্য কানাডা ভ্রমনে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। ইমিগ্রেশন মন্ত্রী মারকো ম্যানডেসিনো এবং পাবলিক সেফটি মন্ত্রী বিল ব্লেয়ার জানিয়েছেন, কানাডার তরুণ-তরুণীর সাথে দীর্ঘ সময় যাবৎ বন্ধুত্বপূর্ণ (বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড) সম্পর্ক রয়েছে, এমন বিদেশি জুটিকে কানাডায় আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গুরুতরভাবে অসুস্থ অথবা কোনো কারণে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, এমন লোকজনের বিদেশি স্বজনকেও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কানাডার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া আন্তর্জাতিক ছাত্র-ছাত্রীরাও কানাডায় আসার অনুমতি পাচ্ছেন। অভিবাসন দফতরের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত আবেদনের নিয়ম জানা যাবে। নির্দিষ্ট ফরমও থাকবে সেখানে। ৮ অক্টোবর থেকে বিশেষ ক্যাটাগরির লোকজনের কানাডায় প্রবেশের অনুমতি কার্যকর করা হবে বলেও উল্লেখ করেন।